মিনিটেই শেষ হবে পৃথিবী! দুনিয়া কাঁপানো ৭টি ভয়ংকর মিসাইল ও তাদের ধ্বংসক্ষমতা

বিশ্ব রাজনীতিতে বর্তমানে এক উত্তাল অস্থিরতা বিরাজ করছে। এই উত্তেজনার আবহে পরাশক্তি দেশগুলো তাদের অস্ত্রাগারে মজুত করেছে এমন সব মারণাস্ত্র, যা নিমেষের মধ্যে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে থাকা লক্ষ্যবস্তুকে গুঁড়িয়ে দিতে পারে। রাশিয়া থেকে উত্তর কোরিয়া কিংবা আমেরিকা—প্রত্যেকের কাছেই রয়েছে এমন কিছু বিধ্বংসী মিসাইল, যা কেবল আণবিক শক্তি নয়, বরং সার্বভৌমত্বের রক্ষাকবচ হিসেবেও পরিচিত। আকাশপথের এই যুদ্ধে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখা সেই ৭টি ভয়ংকর মিসাইল নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন।
রাশিয়ার ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা
বিশ্বের সবচেয়ে দূরপাল্লার মিসাইলের তালিকায় রাশিয়ার দাপট সবচেয়ে বেশি। রাশিয়ার আরএস-২৮ সারমাট বা ‘স্যাটান-২’ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল (ICBM)। এর পাল্লা প্রায় ১৮,০০০ কিলোমিটার এবং এটি ১০ টন ওজনের অস্ত্র বহন করতে সক্ষম। এর বিশেষত্ব হলো এটি দক্ষিণ মেরুর ওপর দিয়ে উড়ে গিয়েও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে, যা শত্রুপক্ষের অ্যান্টি-মিসাইল সিস্টেমের পক্ষে শনাক্ত করা প্রায় আসাম্ভব। এছাড়া সোভিয়েত আমলের আর-৩৬এম বা ‘এসএস-১৮ স্যাটান’ এখনও রাশিয়ার বড় শক্তি। ১৬,০০০ কিলোমিটার পাল্লার এই মিসাইলটি ১০টি ওয়ারহেড বহন করতে পারে।
উত্তর কোরিয়া ও চিনের সামরিক চ্যালেঞ্জ
চিনের অস্ত্রভাণ্ডারে থাকা দংফেং ডিএফ-৪১ হলো অন্যতম শক্তিশালী মোবাইল মিসাইল। ১২,০০০ থেকে ১৫,০০০ কিলোমিটার পাল্লার এই মিসাইলটি মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে আমেরিকা বা ইউরোপের যে কোনো প্রান্তে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে। অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়ার ‘মনস্টার মিসাইল’ নামে পরিচিত হুয়াসং-১৭ বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম রোড-মোবাইল লিকুইড-ফুয়েল মিসাইল। ১৫,০০০ কিলোমিটার পাল্লার এই মিসাইলটি আমেরিকার মূল ভূখণ্ড কাঁপিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। এছাড়া হুয়াসং-১৫ মিসাইলটিও ১৩,০০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে ভারী ওয়ারহেড বহনে সক্ষম।
আমেরিকা ও ব্রিটেনের সুরক্ষা কবচ
আমেরিকার আণবিক শক্তির মূল ভিত্তি হলো এলজিএম-৩০ মিনিটম্যান থ্রি। ৯,৬৫০ কিলোমিটার পাল্লার এই মিসাইলটি ঘণ্টায় ১৫,০০০ মাইল বেগে ছুটতে পারে। বর্তমানে আমেরিকা এর পরিবর্তে আরও উন্নত ‘এলজিএম-৩৫এ সেন্টিনেল’ তৈরির কাজ করছে। পাশাপাশি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ট্রাইডেন্ট-২ ডি৫ মিসাইলটি আমেরিকা ও ব্রিটেন যৌথভাবে ব্যবহার করে। এটি ৭,৬০০ থেকে ১২,০০০ কিলোমিটার পাল্লার মধ্যে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।
প্রভাব ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
আধুনিক যুদ্ধে ভৌগোলিক দূরত্ব এখন আর কোনো বাধা নয়। এই মিসাইলগুলো প্রমাণ করে যে, বিশ্ব রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ এখন অনেকটাই প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের ওপর নির্ভরশীল। এই মারণাস্ত্রগুলোর উপস্থিতিতেই দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধ এড়িয়ে চলার এক প্রকার নীরব চাপের মুখে থাকে। যখনই শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার উপক্রম হয়, তখন এই অস্ত্রগুলোর প্রচ্ছন্ন হুমকিই দেশগুলোকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে বাধ্য করে।
একঝলকে
- আরএস-২৮ সারমাট (রাশিয়া): ১৮,০০০ কিমি পাল্লা, বিশ্বের দীর্ঘতম দূরপাল্লার মিসাইল।
- আর-৩৬এম (রাশিয়া): ১৬,০০০ কিমি পাল্লা, সোভিয়েত আমলের শক্তিশালী আইসিবিএম।
- দংফেং ডিএফ-৪১ (চিন): ১৫,০০০ কিমি পাল্লা, ৩০ মিনিটে আমেরিকা পৌঁছাতে সক্ষম।
- হুয়াসং-১৭ (উত্তর কোরিয়া): ১৫,০০০ কিমি পাল্লা, বিশ্বের বৃহত্তম রোড-মোবাইল মিসাইল।
- এলজিএম-৩০ মিনিটম্যান ৩ (আমেরিকা): ৯,৬৫০ কিমি পাল্লা, আমেরিকার প্রধান ভূ-শক্তি।
- হুয়াসং-১৫ (উত্তর কোরিয়া): ১৩,০০০ কিমি পাল্লা, আমেরিকার প্রধান শহরগুলোতে আঘাত হানতে সক্ষম।
- ট্রাইডেন্ট ২ ডি৫ (আমেরিকা/ব্রিটেন): ১২,০০০ কিমি পাল্লা, সাবমেরিন থেকে নিখুঁত আক্রমণের ক্ষমতা।