মীরটে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি মডিউলের পর্দাফাঁস, হিন্দু পরিচয়ে নাশকতার ছক বানচাল

উত্তরপ্রদেশের মীরটে এক ভয়াবহ জঙ্গি ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করল রাজ্য পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী শাখা (এটিএস)। পাকিস্তানের মদতপুষ্ট এই মডিউলটি ভারতে ‘গজওয়া-এ-হিন্দ’ মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বড়সড় নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। তদন্তে উঠে এসেছে যে, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর নজর এড়াতে এই চক্রটি হিন্দু যুবকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার এক অভিনব ও বিপজ্জনক কৌশল অবলম্বন করেছিল।
তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, এই চক্রের মূল পান্ডা শাকিবকে জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের নির্দেশে শাকিব তার দলে বিকাশ ও লোকেশ নামে দুই হিন্দু যুবককে নিয়োগ করেছিল। ধরা পড়ার ভয় এড়াতে তাদের সাংকেতিক নাম দেওয়া হয়েছিল যথাক্রমে ‘জাহিদ’ ও ‘সলীম’। হিন্দু পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে লোকেশ সহজেই বিভিন্ন স্পর্শকাতর ধর্মীয় স্থান এবং জনবহুল এলাকায় রেকি বা নজরদারি চালাতে সক্ষম হতো।
এই জঙ্গি নেটওয়ার্কের শিকড় দুবাই পর্যন্ত বিস্তৃত বলে জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা। বিদেশে বসে ‘আকিব’ নামের এক ব্যক্তি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে তরুণদের প্রলুব্ধ করত। টাকা ও অস্ত্রের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের এই দেশবিরোধী কাজে যুক্ত করা হতো। আকিবের মাধ্যমেই শাকিব সরাসরি পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলত এবং নিয়মিত নির্দেশিকা গ্রহণ করত।
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, এই মডিউলের প্রধান লক্ষ্য ছিল উত্তরপ্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শিবির এবং স্পর্শকাতর সরকারি স্থাপনা। পাকিস্তানি হ্যান্ডলাররা গুগল লোকেশন পাঠালে শাকিব ও তার সহযোগীরা সেখানে গিয়ে ভিডিও চিত্র ধারণ করত এবং তা সীমান্তের ওপারে পাঠিয়ে দিত। এর বিনিময়ে তাদের অ্যাকাউন্টে মোটা অঙ্কের টাকা জমা পড়ত। এছাড়া কয়েকজন হিন্দুত্ববাদী নেতার গতিবিধির ওপর তারা নজর রাখছিল বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত শাকিব, আরবাব, বিকাশ ও লোকেশকে গ্রেপ্তার করেছে এটিএস। পলাতক আকিবের বিরুদ্ধেও এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশে রেললাইন উপড়ে ফেলা বা লখনউ কেন্দ্রিক নাশকতার চেষ্টার সঙ্গে এই মডিউলের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। উৎসবের মরসুমের আগে এই পর্দাফাঁস বড়সড় সাফল্য হিসেবেই দেখছে পুলিশ।