মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে কমিশনে নালিশ তৃণমূলের

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়ালের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভারতের নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল তৃণমূল কংগ্রেস। অভিযোগ করা হয়েছে, নন্দীগ্রাম সফরের সময় সিইও এমন এক নেতার সঙ্গে ঘুরেছেন, যিনি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দফতরে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে মনোজ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ঘাসফুল শিবির।
তৃণমূলের দাবি অনুযায়ী, গত ৬ এপ্রিল নন্দীগ্রামের হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ঘোরার সময় সিইও-র সঙ্গে ছিলেন বিজেপির কালীচরণপুর এরিয়া কমিটির কনভেনার তপন কুমার মহাপাত্র। অভিযোগ, ওই বিজেপি নেতাই মনোজ আগরওয়ালকে বিভিন্ন বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ভোটারদের থেকে মতামত সংগ্রহে সাহায্য করেছেন। এর আগে প্রচার সভা থেকে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই নিয়ে সরব হয়েছিলেন। পরবর্তীতে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সাংবাদিক সম্মেলনে সাফ জানান, একজন সাংবিধানিক পদের আধিকারিক হয়েও সিইও রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট কাজ করেছেন।
শাসকদলের এই অভিযোগের পালটা জবাব দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সিইও-র সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের গায়ে কি বিজেপির পতাকা ছিল? শুভেন্দুর দাবি, ভোট-পরবর্তী হিংসায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের কাছে কোনো সাংবিধানিক আধিকারিক কি যেতে পারবেন না? তৃণমূলের তোলা এই সমস্ত অভিযোগকে তিনি গুরুত্ব দিতে নারাজ হলেও রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া চিঠিতে তৃণমূল কংগ্রেস মনোজ আগরওয়ালকে অবিলম্বে শোকজ করার দাবি জানিয়েছে। তারা মনে করছে, নির্বাচনের এই স্পর্শকাতর সময়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের এমন আচরণ ভোটারদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশকে বিঘ্নিত করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, তৃণমূলের এই চিঠির ভিত্তিতে দিল্লির নির্বাচন কমিশন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে কি না।