মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ চেয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টে ইন্ডিয়া জোট

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ চেয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টে ইন্ডিয়া জোট

দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো রক্ষা ও অবাধ নির্বাচনের দাবিতে এবার সরাসরি শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হতে চলেছে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আনা ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব সংসদে খারিজ হওয়ার প্রতিবাদে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কোনো আলোচনা ছাড়াই প্রস্তাবটি বাতিল করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ‘অসাংবিধানিক’ এবং গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করার শামিল।

সম্প্রতি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে বিরোধীদের ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়া এবং রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনসহ তৃণমূল সাংসদদের সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কোচবিহারের জেনারেল অবজার্ভারের সঙ্গে জ্ঞানেশ কুমারের বাদানুবাদের বিষয়টিও সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে। এই আবহে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রতিটি জনসভা থেকে সরব হয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

গত ৬ এপ্রিল লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণন ১৯৩ জন বিরোধী সাংসদের স্বাক্ষর সম্বলিত ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবটি খারিজ করে দেন। তাদের যুক্তি ছিল, প্রস্তাবের পেছনে প্রয়োজনীয় আইনি ভিত্তি ও অসদাচরণের প্রমাণের অভাব রয়েছে। তবে বুধবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে আয়োজিত এক জরুরি সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেসের জয়রাম রমেশ ও তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন স্পষ্ট জানান, সংসদের পথ রুদ্ধ হওয়ায় তারা এখন বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার জন্য সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছেন।

জাতীয় রাজনীতির এই নজিরবিহীন টানাপোড়েন ভারতের নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতাকে এক বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। একদিকে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ, অন্যদিকে শীর্ষ পদের আধিকারিককে অপসারণের এই আইনি লড়াই আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ‘ইন্ডিয়া’ জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতেই তাদের এই আইনি সংগ্রাম চলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *