মুম্বইয়ে ১৬ দিনে ৬ পচাগলা দেহ উদ্ধার ঘিরে তীব্র আতঙ্ক বাড়ছে

মুম্বইয়ে ১৬ দিনে ৬ পচাগলা দেহ উদ্ধার ঘিরে তীব্র আতঙ্ক বাড়ছে

বাণিজ্যনগরী মুম্বই কি ধীরে ধীরে অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হচ্ছে? গত ১৬ দিনে মুম্বই ও তৎসংলগ্ন এলাকা থেকে ৬টি পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার সন্ধ্যায়, যেখানে মুম্বই-আমেদাবাদ হাইওয়ের ভিরার ফাটা এলাকায় আবর্জনার স্তূপ থেকে ৪৫-৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ দাড়িওয়ালা ওই ব্যক্তির মৃত্যু হত্যা নাকি দুর্ঘটনা, তা নিশ্চিত করতে দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। একের পর এক রহস্যময় মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

পুলিশি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মৃত্যুমিছিলের সূত্রপাত গত ২১ মার্চ। ওইদিন শিরভালিতে এক মহিলার দেহ উদ্ধার হয়, যা পরবর্তীতে একটি হত্যাকাণ্ড বলে প্রমাণিত হয় এবং অভিযুক্ত স্বামীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এর ঠিক দু’দিন পরেই ২৩ মার্চ নালাসোপারা এলাকায় একটি কুয়ো থেকে নিখোঁজ ছয় বছর বয়সী এক শিশুকন্যার দেহ উদ্ধার হয়। এরপর তিন দিনের ব্যবধানে একই এলাকা থেকে আরও একটি বিকৃত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রতিটি ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং জননিরাপত্তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

মৃতদেহ উদ্ধারের তালিকায় রয়েছে ভাসাই-ভিরার মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এলাকার একটি ড্রেন থেকে উদ্ধার হওয়া এক মহিলার দেহও। গত কয়েক সপ্তাহে একের পর এক ঘটনায় তদন্তকারীরা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। যদিও পুলিশ কিছু মামলার কিনারা করতে সক্ষম হয়েছে, তবুও ড্রেন বা হাইওয়ের ধারের মতো প্রকাশ্য স্থান থেকে ক্রমাগত দেহ উদ্ধার হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও অপরাধীদের বেপরোয়া মনোভাব নিয়ে প্রশাসনের উপর চাপ ক্রমাগত বাড়ছে।

তদন্তকারীরা প্রতিটি মৃত্যুকে গুরুত্বের সাথে বিচার করছেন এবং মৃত্যুর কারণ শনাক্ত করতে ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খুনের অভিযোগ জোরালো হওয়ায় বাণিজ্যনগরীর সংলগ্ন এই এলাকাগুলোতে অপরাধের জাল কতটা ছড়িয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। একের পর এক দেহ উদ্ধারের নেপথ্যে কোনো বড় চক্র রয়েছে কি না, তাও এখন গোয়েন্দাদের আতশকাঁচের নিচে। এই রহস্যময় ঘটনার আবহে গোটা এলাকায় কড়া নজরদারি শুরু করেছে স্থানীয় থানা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *