মুর্শিদাবাদে ভোটার তালিকা সংশোধনে কি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হচ্ছে

মুর্শিদাবাদ জেলার ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সামশেরগঞ্জ এবং বহরমপুর—এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার বাতিলের তালিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করেই একটি পরিকল্পিত ছক সাজানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। এই প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির মধ্যে গোপন আঁতাত রয়েছে বলে দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
পরিসংখ্যানে সামশেরগঞ্জ ও বহরমপুরের বৈষম্য
সামশেরগঞ্জ এবং বহরমপুর উভয় কেন্দ্রে গড়ে ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৩৫ হাজার। কিন্তু ভোটার তালিকার ‘বিচারাধীন’ বা স্ক্রুটিনি পর্বে দুই এলাকার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন:
- সামশেরগঞ্জ: এই মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় ১ লক্ষ ৭ হাজার ৬৬৩ জন ভোটারের নাম বিচারাধীন তালিকায় রাখা হয়েছে, যা মোট ভোটারের ৪৫.৭ শতাংশ।
- বহরমপুর: তুলনামূলকভাবে হিন্দু অধ্যুষিত এই এলাকায় বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা মাত্র ১১ হাজার ৮৮ জন, যা মোট ভোটারের মাত্র ৪.৭ শতাংশ।
জয়ের মার্জিন রক্ষায় গাণিতিক কৌশল
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত নির্বাচনের জয়ের ব্যবধান মাথায় রেখেই এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। বহরমপুরে গতবার বিজেপি ২৬,৮৫২ ভোটে জয়ী হয়েছিল। সেখানে বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা মাত্র ১১ হাজার রাখা হয়েছে যাতে বিজেপির জয়ের মার্জিন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়।
অন্যদিকে, সামশেরগঞ্জে তৃণমূল গতবার ২৬,৩৭৯ ভোটে জয়ী হয়েছিল। সেখানে এক লক্ষের বেশি ভোটারকে বিচারাধীন করা হয়েছে। শাসকদলের আশঙ্কা, এর অর্ধেক ভোটারও যদি চূড়ান্ত তালিকায় বাদ পড়ে যান, তবে তৃণমূলের জয় নিশ্চিতভাবেই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
হিন্দু-মুসলিম ভোটার অনুপাত ও নিষ্পত্তি
দুই কেন্দ্রের জনবিন্যাস ও নিষ্পত্তির হার খতিয়ে দেখলে দেখা যায়:
- বহরমপুর: এখানে ৭২.১ শতাংশ হিন্দু এবং ২৬.৯ শতাংশ মুসলিম ভোটার। নিষ্পত্তিকৃত ভোটারদের মধ্যে ৬১.৬ শতাংশ মুসলিম হলেও সামগ্রিকভাবে বিচারাধীন তালিকায় থাকার হার অত্যন্ত কম।
- সামশেরগঞ্জ: এই কেন্দ্রে মুসলিম ভোটারের হার ৯৮.৮ শতাংশ। এখানে বিপুল সংখ্যক মানুষকে বিচারাধীন রাখার বিষয়টিকে শাসকদল ‘সুপরিকল্পিত সংখ্যালঘু বর্জন’ হিসেবে দেখছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
তৃণমূল কংগ্রেসের মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার (ডেভিড) সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, বিজেপির পরামর্শে কমিশন দেখে দেখে সংখ্যালঘুদের বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা শাখারভ সরকার এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, কমিশন নিয়ম মেনেই অবৈধ ভোটারদের বাদ দিচ্ছে। এদিকে কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরীও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দাবি করেছেন, সকল প্রকৃত ভোটারের নাম তালিকায় রেখেই নির্বাচন করতে হবে।