মৃত্যুফাঁদ হয়ে দাঁড়াচ্ছে নর্দমা ও সেপটিক ট্যাঙ্ক, প্রতি পাঁচ দিনেই প্রাণ হারাচ্ছেন একজন শ্রমিক

মৃত্যুফাঁদ হয়ে দাঁড়াচ্ছে নর্দমা ও সেপটিক ট্যাঙ্ক, প্রতি পাঁচ দিনেই প্রাণ হারাচ্ছেন একজন শ্রমিক

ভারতে নর্দমা ও সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কারের কাজ এখন এক ভয়ংকর মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে প্রতি পাঁচ দিনে গড়ে একজন স্যানিটেশন কর্মীর মৃত্যু হচ্ছে যা দেশজুড়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই বিপজ্জনক কাজে মোট ৩১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে ২০২২ সাল ছিল সবথেকে ভয়াবহ যেখানে ৮৮ জন কর্মীর মৃত্যু হয় অর্থাৎ প্রতি সপ্তাহে গড়ে ২ জন। মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ট্যাঙ্কের ভেতরে জমে থাকা মিথেন, হাইড্রোজেন সালফাইড ও কার্বন মনোক্সাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস। এক সরকারি অডিট রিপোর্টে দেখা গেছে মৃতদের ৯০ শতাংশেরই কোনো সুরক্ষা সরঞ্জাম বা পিপিই কিট ছিল না।

তথ্য অনুযায়ী মৃত্যুর হারে শীর্ষে রয়েছে সাতটি রাজ্য। এর মধ্যে মহারাষ্ট্রে সর্বোচ্চ ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হরিয়ানায় ৪৩ জন, তামিলনাড়ু ৩৮ জন, উত্তরপ্রদেশ ৩৫ জন এবং দিল্লিতে ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ১৯৯৩ সালে হাতে করে নোংরা পরিষ্কার বা ম্যানুয়াল স্ক্যাভেঞ্জিং নিষিদ্ধ হলেও এবং ২০১৩ সালে একে দণ্ডনীয় অপরাধ ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে এখনো বহু জায়গায় যান্ত্রিকীকরণের অভাবে মানুষকে এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নামানো হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টের ২০২৩ সালের নির্দেশ অনুযায়ী এই ধরনের দুর্ঘটনায় মৃত কর্মীর পরিবারকে এখন ১০ লক্ষ টাকার পরিবর্তে ৩০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নিয়ম করা হয়েছে। সরকার ‘ন্যাশনাল অ্যাকশন ফর মেকানাইজড স্যানিটেশন ইকোসিস্টেম’ প্রকল্পের মাধ্যমে এই কাজে মানুষের সরাসরি প্রবেশ বন্ধ করে সম্পূর্ণ যান্ত্রিকীকরণের লক্ষ্য নিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার ও কঠোর আইন প্রয়োগই পারে এই অকাল মৃত্যু রুখতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *