মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেন মার্কিন পাইলট, সাত হাজার ফুট উঁচুতে ইরানি সেনার চোখে ধুলো দিয়ে রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান

ইরানি ভূখণ্ডে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর মার্কিন পাইলটকে উদ্ধারে টানা দুদিন ধরে অত্যন্ত বিপজ্জনক অভিযান চালাল আমেরিকা। শত্রুপক্ষের চোখে ধুলো দিয়ে পাহাড়ের খাঁজে লুকিয়ে থাকা ওই পাইলটকে শেষ পর্যন্ত মার্কিন বিশেষ বাহিনী বা স্পেশাল ফোর্সেস সুরক্ষিতভাবে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানটি ভেঙে পড়ার পর ইরানি সেনার হাত থেকে বাঁচতে ওই পাইলট দুর্গম বন ও পাহাড়ের মধ্যে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
ইরানি সেনারা চারদিকে তল্লাশি শুরু করলে পাইলট এক দুঃসাহসিক সিদ্ধান্ত নেন। তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে তিনি প্রায় ৭ হাজার ফুট উঁচু একটি পর্বতশৃঙ্গে আরোহণ করেন। ইরান সরকার ওই পাইলটকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য বড় অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করলেও লাভ হয়নি। দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টা পাহাড়ের ফাটলে লুকিয়ে থাকার পর সিআইএ-র সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে মার্কিন কমান্ডোরা সরাসরি ময়দানে নামে।
এই সফল অভিযান নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের বিপজ্জনক পাহাড় থেকে তাদের সাহসী পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছে। পাইলট গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও অদম্য মানসিক জোর দেখিয়েছেন। উদ্ধারের সময় ইরানি সেনা খুব কাছাকাছি চলে আসায় মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো তাদের লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
নেভি সিল টিম-সিক্স সহ শত শত বিশেষ বাহিনীর সদস্য এই মিশনে অংশ নিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই অভিযানকে মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদ্ধার অভিযান হিসেবে অভিহিত করেছেন। পুরো মিশনটি সম্পন্ন করতে মার্কিন বাহিনী প্রায় সাত ঘণ্টা ইরানের আকাশসীমায় অবস্থান করেছিল। পাইলটের অবস্থান নিশ্চিত করা এবং তাকে নিরাপদে বিমানে তুলে নিয়ে আসা—এই দুই পর্যায়ে পুরো অপারেশনটি চালানো হয়।
হোয়াইট হাউস এই অভিযানের সাফল্যের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, নিজেদের সেনার সুরক্ষার জন্য আমেরিকা যে কোনো পর্যায়ে যেতে প্রস্তুত। পাশাপাশি তথ্য পাওয়া গেছে যে, হরমুজ প্রণালীর কাছে বিধ্বস্ত হওয়া অপর একটি এ-১০ ওয়ারহগ বিমানের পাইলটকেও মার্কিন বাহিনী সফলভাবে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।