মৃত মায়ের গয়না লুট ও প্রতিবেশীদের ফাঁসানোর ছক! স্ত্রীর খুনের অপরাধ ঢাকতে ছেলের ভয়ঙ্কর কাণ্ড

পূর্বস্থলী ১ ব্লকের জালুইডাঙার সেই রোমহর্ষক ঘটনার পর্দাফাঁস করল পুলিশ। নিজের জন্মদাত্রী মায়ের মৃতদেহ নিয়ে ছিনিমিনি খেলে এবং খুনের দায় প্রতিবেশীদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেও শেষরক্ষা হলো না গুণধর ছেলে সুকান্ত ঘোষ ও তার স্ত্রী চন্দনা ঘোষের। প্রায় এক মাস তদন্ত চালানোর পর অবশেষে নাদনঘাট থানার পুলিশ এই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে।
যেভাবে সাজানো হয়েছিল নাটকের ছক তদন্তে উঠে এসেছে এক শিহরণ জাগানো তথ্য। ঘটনার দিন পারিবারিক অশান্তি চরমে পৌঁছালে ছোট বউমা চন্দনা ঘোষের হাতে খুন হন বৃদ্ধা লক্ষ্মী ঘোষ। সেই সময় বাড়িতে বড় ছেলে বা অন্য কেউ ছিলেন না। স্ত্রীর এই অপরাধ ঢাকতে আসরে নামেন স্বামী সুকান্ত। মায়ের মৃতদেহ থেকে সোনার গয়না খুলে নিয়ে এবং এমনকি কান কেটে কানের দুল সরিয়ে ফেলে সে। এরপর প্রমাণ লোপাটের জন্য মায়ের দেহটি প্রতিবেশীদের বাড়ির গলিতে ফেলে দিয়ে আসে, যাতে সন্দেহ তাঁদের ওপর পড়ে।
মিথ্যে গল্পের জাল ও পুলিশের হানা ঘটনার পর সুকান্ত নাটক শুরু করে যে তার মা নিখোঁজ। পরের দিন সকালে রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হতেই সে দাবি করে, সোনার গয়নার লোভে দুষ্কৃতীরা তার মাকে খুন করেছে। কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ধরা পড়ে যে বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে মারা হয়েছে। ফরেন্সিক দল ও পুলিশের জেরার মুখে সুকান্ত ও চন্দনার বয়ানে একাধিক অসংলগ্নতা ধরা পড়ে।
আইনি পদক্ষেপ জেরার মুখে একপর্যায়ে অপরাধ কবুল করলেও আদালতে তোলার সময় সুকান্ত খুনের কথা অস্বীকার করার চেষ্টা করে। তবে পুলিশের কাছে থাকা তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত তাদের ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। নিজের স্ত্রীকে বাঁচাতে মায়ের মৃতদেহ নিয়ে এমন জঘন্য ষড়যন্ত্রের ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।