মেগা শনিবার গাজোলে মমতা ও বারাবনিতে অভিষেক, উত্তপ্ত নির্বাচনী প্রচারের ময়দান

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে শনিবাসরীয় প্রচার ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক পারদ। আজ মালদার গাজোলে এক বিশাল জনসভায় যোগ দেবেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জনসভা শেষ করে মালদা শহরে একটি বর্ণাঢ্য রোড-শো করার কথা রয়েছে তাঁর। উত্তরবঙ্গে নিজের শক্তি প্রদর্শন এবং জনসমর্থন জোরালো করাই নেত্রীর আজকের মূল লক্ষ্য।
অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গে প্রচারে ঝড় তুলছেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ আসানসোলের বারাবনিতে তাঁর নির্বাচনী সভা নির্ধারিত রয়েছে। সেখান থেকে তিনি বীরভূমের তারাপীঠ মন্দিরে পুজো দেবেন এবং পরবর্তীতে হাসন বিধানসভা কেন্দ্রে প্রচার কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। দুই হেভিওয়েট নেতার এই জোড়া কর্মসূচি ঘিরে কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সাধারণত ভোট মিটে গেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী সরিয়ে নেওয়া হলেও এবার ফল প্রকাশের পরেও রাজ্যে বাহিনী মোতায়েন থাকবে। বিগত নির্বাচনগুলোতে ভোট-পরবর্তী হিংসা ও প্রাণহানির তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এই আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কমিশন।
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সম্ভাব্য অশান্তি রুখতে অন্তত ৫০০ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোট গণনা শেষ হওয়ার পরেও এই বাহিনী নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে টহল দেবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই নির্বাচন কমিশন এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
এদিকে শ্রীরামপুর কেন্দ্রে রাজনৈতিক লড়াইয়ের এক অন্য ছবি ফুটে উঠছে। কংগ্রেস প্রার্থী শুভঙ্কর সরকার সেখানে দলের ভাঙাচোরা কার্যালয় আর হাতেগোনা কর্মীদের নিয়েই ময়দানে নেমেছেন। এলাকার ‘ঘরের ছেলে’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে তাঁর এই লড়াই আসন্ন নির্বাচনে কতখানি প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
শনিবারের এই মেগা ফাইট এবং কমিশনের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুই-ই এখন রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচারের তীব্রতা আর প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে বাংলার বিধানসভা নির্বাচন এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। সব মিলিয়ে আজ সারাদিন রাজ্যের রাজনীতির গতিপ্রকৃতির দিকে নজর থাকবে গোটা দেশের।