মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করলেন এয়ার ইন্ডিয়ার সিইও ক্যাম্পবেল উইলসন

মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বড় সিদ্ধান্ত নিলেন এয়ার ইন্ডিয়ার চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) ক্যাম্পবেল উইলসন। গত সপ্তাহের বোর্ড মিটিংয়ে তাঁর পেশ করা ইস্তফাপত্রটি গৃহীত হয়েছে। সোমবার রাতে এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে এই খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে দায়িত্বভার গ্রহণের জন্য পরবর্তী উত্তরসূরি না পাওয়া পর্যন্ত উইলসন আপাতত নিজের কাজ চালিয়ে যাবেন বলে জানা গিয়েছে।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে এয়ার ইন্ডিয়ার শীর্ষপদে যোগ দিয়েছিলেন ক্যাম্পবেল উইলসন। ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁর পাঁচ বছরের চুক্তির মেয়াদ ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই তাঁর এই প্রস্থান নিয়ে শিল্পমহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সূত্রের খবর, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি আর এই দায়িত্বে থাকতে চাননি, যার ফলে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকেই নতুন সিইও-র খোঁজ শুরু করেছিল সংস্থা। আগামী সপ্তাহের বোর্ড মিটিংয়ে পরবর্তী প্রধানের নাম চূড়ান্ত হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
বর্তমানে এয়ার ইন্ডিয়া এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সংস্থাটি রেকর্ড লোকসানের সম্মুখীন, যা ২০২৬ অর্থবর্ষে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক রুটে বিমান চলাচলে নানা বিধিনিষেধ এবং জ্বালানির বাড়তি খরচ সংস্থার ওপর আর্থিক চাপ বাড়িয়েছে। এর আগে মার্চ মাসে ইন্ডিগোর সিইও পিটার এলবার্সও পদত্যাগ করেছিলেন, যা এভিয়েশন সেক্টরে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সংস্থার এই টালমাটাল অবস্থায় ক্যাম্পবেল উইলসনের পদত্যাগ বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক রুটে এয়ার ইন্ডিয়ার আধিপত্য থাকলেও পরিষেবা বিভ্রাট এবং ক্রমবর্ধমান খরচ নিয়ন্ত্রণ করাই এখন নতুন নেতৃত্বের কাছে প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। আপাতত এয়ার ইন্ডিয়া বোর্ড দ্রুত নতুন কোনো দক্ষ পেশাদারকে এই দায়িত্ব তুলে দিতে তৎপরতা শুরু করেছে।