মেয়ের কেনা গাড়ি, হাতে সামান্য নগদ: জলহাটির বিজেপি প্রার্থী আরজি করের নির্যাতিতার মায়ের সম্পত্তির খতিয়ান

মেয়ের কেনা গাড়ি, হাতে সামান্য নগদ: পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী আরজি করের নির্যাতিতার মায়ের সম্পত্তির খতিয়ান

আরজি কর কাণ্ডের সেই মর্মান্তিক স্মৃতি আজও রাজ্যবাসীর মনে টাটকা। সেই নির্যাতিতা চিকিৎসকের মা এবার রাজনীতির ময়দানে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনার জলহাটি কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তিনি। নির্বাচনী হলফনামায় তাঁর দেওয়া তথ্যে উঠে এসেছে এক আবেগঘন অধ্যায়। সেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রয়াত মেয়ের ব্যবহৃত গাড়িটি এখন আইনিভাবে তাঁর ও তাঁর স্বামীর নামে রয়েছে।

প্রার্থীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির খতিয়ান

নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, জলহাটির এই বিজেপি প্রার্থীর নিজস্ব কোনো জমি বা বাড়ি নেই। তাঁর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১৯ লক্ষ ২৪৩২ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে:

  • নগদ ২০ হাজার টাকা।
  • ব্যাঙ্কে বেশ কিছু ফিক্সড ডিপোজিট এবং সেভিংস অ্যাকাউন্টে জমা থাকা আমানত।
  • ৩০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণালঙ্কার।
  • একটি চার চাকা গাড়ি (যা বর্তমানে স্বামী ও স্ত্রীর নামে যৌথভাবে রয়েছে)।

মেয়ের স্মৃতি ও পারিবারিক সম্পদ

হলফনামার তথ্যানুযায়ী, প্রার্থীর স্বামী ও তাঁর নামে যে গাড়িটি রয়েছে, সেটি আসলে তাঁদের প্রয়াত মেয়ে কিনেছিলেন। মেয়ের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে সেটি তাঁদের নামে হস্তান্তরিত হয়েছে। প্রার্থীর স্বামীর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৩৫ লক্ষ ৯৬ হাজার ৩৪৯ টাকা। এর মধ্যে নগদ রয়েছে ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া তাঁদের একটি জয়েন্ট অ্যাকাউন্টও রয়েছে। প্রার্থীর নামে কোনো বাড়ি না থাকলেও, তাঁর স্বামীর নামে থাকা জমি ও বাড়ির বর্তমান বাজারমূল্য ২০ লক্ষ টাকা।

আর্থিক ও আইনি অবস্থান বিশ্লেষণ

হলফনামা থেকে প্রার্থীর স্বচ্ছ ভাবমূর্তির একটি চিত্র পাওয়া যায়। তাঁর নামে কোনো ফৌজদারি মামলা বা কোনো ধরনের ঋণ নেই। প্রার্থীর নিজস্ব আয়কর দাখিলের কোনো তথ্য নেই। তবে তাঁর স্বামী আয়কর দেন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তাঁর বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ৭২ হাজার ১৯০ টাকা।

রাজনৈতিক গুরুত্ব ও সামাজিক প্রেক্ষাপট

আরজি করের ঘটনার পর এই প্রার্থীর নির্বাচনে দাঁড়ানো রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জলহাটির লড়াইয়ে বিজেপি যে আবেগ এবং ন্যায়বিচারের দাবিকে হাতিয়ার করতে চাইছে, এই মনোনয়ন তারই ইঙ্গিত দেয়। একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে রাজনৈতিক মঞ্চে তাঁর এই উত্তরণ স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে কেমন প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

একঝলকে

  • প্রার্থীর মোট অস্থাবর সম্পত্তি: ১৯ লক্ষ ২৪৩২ টাকা।
  • স্বামীর মোট অস্থাবর সম্পত্তি: ৩৫ লক্ষ ৯৬ হাজার ৩৪৯ টাকা।
  • স্বর্ণালঙ্কার: প্রার্থীর কাছে রয়েছে ৩০ গ্রাম সোনা।
  • গাড়ি: মেয়ের কিনে দেওয়া একটি গাড়ি (বর্তমানে স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে)।
  • স্থাবর সম্পত্তি: প্রার্থীর নামে নেই, স্বামীর নামে ২০ লক্ষ টাকার বাড়ি ও জমি রয়েছে।
  • আইনি তথ্য: কোনো ফৌজদারি মামলা বা ঋণ নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *