মোথাবাড়ি কাণ্ডে নয়া মোড় মোফাক্কেরুলকে নিজেদের হেফাজতে নিতে মরিয়া এনআইএ

মোথাবাড়ি কাণ্ডে নয়া মোড় মোফাক্কেরুলকে নিজেদের হেফাজতে নিতে মরিয়া এনআইএ

মালদহের মোথাবাড়ি এবং সুজাপুরের সাম্প্রতিক উত্তাল পরিস্থিতির তদন্তে এবার বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। মামলার অন্যতম মূল অভিযুক্ত তথা আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নিতে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন জানিয়েছে কেন্দ্রীয় এই সংস্থা। এই আবেদনের প্রেক্ষিতেই নির্ধারিত সময়ের আগেই অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করে মালদহ জেলা পুলিশ।

তদন্তের মোড় ও পুলিশের পদক্ষেপ

১ এপ্রিল সুজাপুরে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিক্ষোভ এবং মোথাবাড়িতে বিডিও অফিসে বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে জেলা। এই ঘটনায় মূল উসকানিদাতা হিসেবে নাম উঠে আসে মোফাক্কেরুল ইসলামের। গত ৩ এপ্রিল বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে সিআইডির হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর আদালত তাকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিল। তবে এনআইএ-র আগ্রহের কারণে পাঁচ দিনের মাথাতেই বুধবার তাকে পুনরায় আদালতে হাজির করা হয়। আদালত বর্তমানে তাকে বিচারবিভাগীয় হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

কেন মোফাক্কেরুলকে খুঁজছে এনআইএ

মোথাবাড়ি কাণ্ডের গুরুত্ব বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এনআইএ ইতিম্যধ্যেই তিন দিন ধরে প্রাথমিক তদন্ত চালিয়েছে। সোমবার তারা সর্বোচ্চ আদালতে রিপোর্ট পেশ করার পর এখন পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার গোয়েন্দাদের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো:

  • কার নির্দেশে এই আইনজীবী উসকানিমূলক বক্তৃতা দিয়েছিলেন তা খতিয়ে দেখা।
  • বিচারকদের ওপর হামলা ও অবরোধের নেপথ্যে কোনো সুপরিকল্পিত নীল নকশা ছিল কি না তা জানা।
  • ঘটনার মূল মাস্টারমাইন্ডকে চিহ্নিত করা।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আইনি প্রক্রিয়া

সুজাপুরে জাতীয় সড়ক অবরোধের সময় গাড়ির ওপর উঠে মোফাক্কেরুলের উসকানিমূলক বক্তব্য এবং পরবর্তীতে মোথাবাড়িতে বিডিও অফিসে সাতজন বিচারককে মধ্যরাত পর্যন্ত আটকে রাখার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। উদ্ধারকাজে গিয়ে পুলিশকেও বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল। সরকারি আইনজীবী দেবজ্যোতি পাল জানিয়েছেন, তদন্তভার হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার কারণেই পুলিশ অভিযুক্তকে দ্রুত আদালতে ফিরিয়ে দেয়। আজ বৃহস্পতিবার এনআইএ আনুষ্ঠানিকভাবে মোফাক্কেরুলকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *