মোদির সভায় যেতে নারাজ ২০০ বাস, অগ্রিম টাকা ফেরত দিয়ে চরম বিপাকে বিজেপি

মোদির সভায় যেতে নারাজ ২০০ বাস, অগ্রিম টাকা ফেরত দিয়ে চরম বিপাকে বিজেপি

রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে ঝড় তুলতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বঙ্গ সফরের আগেই দানা বাঁধল তীব্র বিতর্ক। আসানসোলের পোলো ময়দানে আয়োজিত ‘বিজয় সংকল্প সভা’ ঘিরে সরগরম পশ্চিম বর্ধমানের রাজনীতি। অভিযোগ উঠেছে, সভার জন্য বুক করা প্রায় ২০০টি বাসের কর্মীরা শেষ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীকে সভাস্থলে নিয়ে যেতে অস্বীকার করেছেন। এমনকি, বাসের মালিকরা অগ্রিম নেওয়া টাকাও বিজেপি নেতৃত্বকে ফেরত দিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় কর্মী-সমর্থকদের সভাস্থলে আনা নিয়ে কার্যত চরম অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া শিবির।

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই পরিস্থিতির নেপথ্যে শাসকদল তৃণমূলের প্রচ্ছন্ন চাপ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি কাজ করছে। জেলা বিজেপি নেতা কেশব পোদ্দারের অভিযোগ, বাস মালিকদের ভয় দেখানো হয়েছে যে মোদির সভায় গাড়ি পাঠালে ভবিষ্যতে বাস বসিয়ে দেওয়া হবে। এই রাজনৈতিক চাপের কারণেই বাস কর্মীরা পিছু হটেছেন বলে দাবি স্থানীয় পদ্ম শিবিরের। তবে এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের প্রাক্কালে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে পৌঁছেছে।

পাল্টা জবাবে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি (INTTUC) সাফ জানিয়েছে, কোনো জোরজবরদস্তি নয় বরং এটি শ্রমিকদের নিজস্ব ও স্বতঃস্ফূর্ত সিদ্ধান্ত। তৃণমূল নেতা রাজু আহলুওয়ালিয়ার মতে, বাসের চালক ও কর্মীরা তৃণমূলের আদর্শে বিশ্বাসী এবং তাঁরা নিজেদের গাড়িতে বিজেপির ঝাণ্ডা লাগাতে অনিচ্ছুক। তৃণমূলের দাবি, লোক জড়ো করতে ব্যর্থ হয়ে বিজেপি এখন বাস বাতিলের বাহানা দিয়ে সাংগঠনিক দুর্বলতা ঢাকার চেষ্টা করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ভোটের মুখে ২০০টি বাসের এই জটিলতা বিজেপির অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতাকে জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে। কুলটি-সহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে সংগঠন মজবুত না থাকায় এবং মানুষের সাড়া না পেয়েই বিজেপি দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে বলে দাবি ঘাসফুল শিবিরের। শেষ পর্যন্ত বাস সংকট কাটিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির সভায় লোক সমাগম কতটা হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *