মোদীর ভোলবদল? মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে তোপ কংগ্রেসের

নয়াদিল্লি: মহিলা সংরক্ষণ বিল বা ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ কার্যকরের ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে সুর চড়াল কংগ্রেস। বুধবার বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি ‘ইউ-টার্ন ওস্তাদ’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের সময় যে বিল কার্যকর করা আসাম্ভব বলে দাবি করেছিল সরকার, এখন রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে সেই অবস্থান থেকে সরে আসছেন মোদী।
জয়রাম রমেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ২০২৩ সালে নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধনের সময় এই ঐতিহাসিক আইন পাস হয়েছিল। সেই সময় লোকসভা ও বিধানসভাগুলোতে মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হলেও, তা জনগণনা ও সীমানা পুনর্নির্ধারণের (ডিলিমিটেশন) দোহাই দিয়ে আটকে রাখা হয়। কংগ্রেস তখনই এটি অবিলম্বে কার্যকরের দাবি জানিয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রীর ‘ডব্লিউএমডি’ কৌশল
কংগ্রেসের অভিযোগ, বর্তমান এলপিজি ও জ্বালানি সংকট এবং পররাষ্ট্রনীতির ব্যর্থতা থেকে সাধারণ মানুষের নজর ঘোরাতেই প্রধানমন্ত্রী এখন ‘ডব্লিউএমডি’ (ডিস্ট্রাকশন অফ মাস ডিসট্রাকশন) বা গণ-বিভ্রান্তির অস্ত্র ব্যবহার করছেন। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে আইনটি সংশোধনের যে পরিকল্পনা চলছে, তাকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন রমেশ।
বিশেষ অধিবেশন ও নির্বাচনী বিধি
জয়রাম রমেশ আরও বলেন, এপ্রিল মাসে বিশেষ অধিবেশন ডাকা নির্বাচনী আচরণবিধির (এমসিসি) পরিপন্থী। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, এখন ‘আচরণবিধি’ কেবল ‘মোদী প্রচার বিধি’-তে পরিণত হয়েছে। এছাড়া লোকসভা ও বিধানসভার আসন সংখ্যা ৫০ শতাংশ বাড়ানোর যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তা নিয়েও বিরোধী দলগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে ২৯ এপ্রিলের পর একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার জন্য সরকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।