মোদীর মেগা সভায় অনুপস্থিত শুভেন্দু অধিকারী, তুঙ্গে অমিতাভ চক্রবর্তীর সঙ্গে সংঘাতের জল্পনা
বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার পর কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রথম হাই-ভোল্টেজ জনসভায় শুভেন্দু অধিকারীর অনুপস্থিতি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। রবিবার ওই সভায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে সুকান্ত মজুমদার এবং নিশীথ প্রামাণিকের মতো শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব উপস্থিত থাকলেও, রাজ্যের অন্যতম প্রধান মুখ তথা বিরোধী দলনেতার গরহাজিরায় দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বিজেপির প্রথা অনুযায়ী, যে সমস্ত রাজ্যে দল ক্ষমতায় নেই, সেখানে সাংগঠনিক কর্মসূচিতে রাজ্য সভাপতির পাশাপাশি বিরোধী দলনেতার উপস্থিতি ও গুরুত্ব আবশ্যিক। মোদীর এই সভায় শমীক ভট্টাচার্য আগেভাগে পৌঁছে প্রস্তুতি তদারকি করলেও শুভেন্দুকে দেখা যায়নি। পরিবর্তে তিনি রবিবার দিনভর নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র নন্দীগ্রামে ভোট প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন। দলের শীর্ষ নেতার সভায় কেন তিনি গেলেন না, তা নিয়ে শুভেন্দু নিজে মুখ না খুললেও বিজেপির অন্দরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
দলীয় সূত্রে খবর, এই অনুপস্থিতির নেপথ্যে কাজ করছে এক গভীর সাংগঠনিক ঠান্ডা লড়াই। অভিযোগ উঠেছে, রাজ্য বিজেপির সংগঠন সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তীর পক্ষ থেকে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে সভার কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পৌঁছায়নি। অতীতেও এই ধরণের সমন্বয়হীনতার নজির দেখা গিয়েছে, যা ফের একবার প্রকট হলো মোদীর সভার মতো গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে। শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, আমন্ত্রণ না পাওয়ায় তিনি নিজের এলাকায় প্রচারেই মনোনিবেশ করা শ্রেয় মনে করেছেন।
বর্তমানে বঙ্গ বিজেপির আসল ‘মুখ’ কে—তা নিয়ে এমনিতেই রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন রয়েছে। ভবানীপুরে প্রার্থীর মনোনয়নপত্র পেশের সময় শুভেন্দুর সক্রিয় উপস্থিতি অনেক ইঙ্গিত দিলেও, প্রধানমন্ত্রীর সভায় তাঁর এই দূরত্ব নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যদিও রাজ্য বিজেপি এই বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি, তবে অমিতাভ চক্রবর্তীর সঙ্গে শুভেন্দুর এই সম্ভাব্য সংঘাত ভোটের মুখে দলের সংহতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল।