মোদীর হাতে শাসনভার, মালদার ঘটনা নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে তোপ মমতার

মোদীর হাতে শাসনভার, মালদার ঘটনা নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে তোপ মমতার

মালদহে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে যুক্ত সাতজন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে আটকে রাখার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ইস্যুতে মুখ খুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাগরদিঘির এক জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমানে রাজ্যের প্রশাসনিক রাশ তাঁর হাতে নেই, বরং নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই ঘটনার দায়ভার তাই প্রশাসনের বর্তমান কর্তাব্যক্তিদের ওপরই বর্তায় বলে তিনি দাবি করেন।

মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের কারণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব এখন সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। তাঁর দাবি, বর্তমানে পুলিশ ও প্রশাসন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে কাজ করছে। এমনকি পদস্থ আধিকারিকদেরও কেন্দ্রের ইচ্ছামতো রদবদল করা হয়েছে। ফলে এই ধরণের ঘটনার জন্য রাজ্য সরকারকে দায়ী করার কোনো অবকাশ নেই বলেই তিনি মনে করেন।

মালদহের ঘটনা প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, আধিকারিকদের আটকে রাখার বিষয়ে তাঁকে আগে থেকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। মাঝরাতে এক সাংবাদিকের মাধ্যমেই তিনি প্রথম এই খবরটি পান। ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে, সেই বিষয়টিও তিনি এদিন তুলে ধরেন। তাঁর মতে, গোটা বিষয়টি নিয়ে এক ধরণের বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করেছেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, এটি বিজেপির একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। রাজ্যে অশান্তি পাকিয়ে নির্বাচন বাতিল করা এবং শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করাই গেরুয়া শিবিরের মূল লক্ষ্য। বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মালদহের এই ঘটনা এবং মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা অভিযোগ ঘিরে বাংলার নির্বাচনী পারদ আরও চড়তে শুরু করেছে। প্রশাসনিক ক্ষমতা কার হাতে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায় কার, সেই তর্কেই এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি। বিরোধী শিবির অবশ্য এই ঘটনার জন্য রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই দায়ী করছে। সব মিলিয়ে নির্বাচন দোরগোড়ায় থাকাকালীন এই বিতর্ক নতুন মাত্রা যোগ করল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *