“মোদী বাবুর ১২ বছর শেষ, ২ কোটি চাকরি কোথায়?” সিউড়ি থেকে তোপ মমতার

সোমবার সিউড়ির এক জনসভায় সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপি সরকারকে কর্মসংস্থান ইস্যুতে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রের দীর্ঘ শাসনকাল এবং নিয়োগের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানের প্রশ্নে বিজেপি সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা: ২ কোটি চাকরির দাবি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সরাসরি মোদী সরকারকে নিশানা করে বলেন যে, ক্ষমতায় আসার আগে প্রতি বছর ২ কোটি চাকরির যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা গত ১২ বছরেও পূরণ হয়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “মোদীবাবুকে জিজ্ঞাসা করুন, কর্মসংস্থানের কী হল? আপনারও তো ১২ বছর হয়ে গেল, সেই ২ কোটি চাকরি কোথায় গেল?” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি মূলত কেন্দ্রের অর্থনৈতিক নীতি এবং কর্মসংস্থান তৈরির মন্থর গতিকে জনসমক্ষে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
আইনি জটিলতা ও রাজ্য সরকারের সীমাবদ্ধতা
রাজ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে থাকা নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে মুখ্যমন্ত্রী পাল্টা অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকার যখনই শূন্যপদ পূরণ করতে উদ্যোগী হয়, তখনই আইনি বাধার সৃষ্টি করা হয়।
রাজ্য শূন্যপদ পূরণের চেষ্টা করলেই আদালতে মামলা ঠুকে দেওয়া হয়।
পরিকল্পিতভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে দেওয়ার চেষ্টা চলে যাতে সরকার বিপাকে পড়ে।
চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
রেল ও সেনাবাহিনীতে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন
কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে থাকা বড় সংস্থাগুলিতে কর্মী নিয়োগের করুণ দশা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, রেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে গ্যাংম্যান নিয়োগ বন্ধ রয়েছে এবং সেনাবাহিনীতেও প্রচুর পদ শূন্য পড়ে আছে। এই প্রসঙ্গ টেনে তাঁর খোঁচা, “বিজেপি চাকরি দেবে? রেলে গ্যাংম্যান নিয়েছে? সেনায় পদ খালি। তার পরেও বলছে চাকরি দেবে! চাকরি দেব আমরা।”
রাজনৈতিক প্রভাব ও বিশ্লেষণ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান প্রমাণ করে যে, আসন্ন রাজনৈতিক লড়াইয়ে ‘কর্মসংস্থান’ অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হতে চলেছে। একদিকে যেমন তিনি কেন্দ্রের ব্যর্থতা ঢাকতে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর শূন্যপদকে সামনে এনে পাল্টা চাপ তৈরি করছেন। তাঁর এই বক্তব্য মূলত যুবসমাজ এবং চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে বিজেপির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার একটি কৌশল।
একঝলকে
কেন্দ্রের ১২ বছরের শাসনে ২ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি অধরা বলে দাবি মমতার।
রাজ্যের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোর্ট-কাছারির মাধ্যমে বাধা সৃষ্টির জন্য বিরোধীদের দায়ী করা হয়েছে।
রেল ও সেনাবাহিনীতে বিপুল শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্র কেন নিয়োগ করছে না, সেই প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
কর্মসংস্থানের লড়াইয়ে রাজ্য সরকারই যে প্রকৃত বিকল্প, সেই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।