যাদবপুরে ভোটের লড়াইয়ের শুরুতেই নজর কাড়ছে রঙিন দেওয়াল লিখন ও ছড়া-ছন্দ

যাদবপুরে ভোটের লড়াইয়ের শুরুতেই নজর কাড়ছে রঙিন দেওয়াল লিখন ও ছড়া-ছন্দ

রাজ্যে নির্বাচনের দামামা বাজতেই প্রচারের ময়দানে সরগরম যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্র। এবারও এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন বিদায়ী বিধায়ক দেবব্রত মজুমদার। ভোট ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই পাটুলি, বৈষ্ণবঘাটা, সাঁপুইপাড়া ও মণ্ডলপাড়ার মতো এলাকাগুলোতে সাবেকি প্রচারের ধরন বদলে দেওয়ালজুড়ে দেখা যাচ্ছে আকর্ষণীয় ছড়া, কবিতা ও ব্যঙ্গচিত্র। বিশেষ করে ১০৬ ও ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের দেওয়ালগুলোতে সরকারি প্রকল্পের সুফল এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের কটাক্ষ করে লেখা বিভিন্ন স্লোগান সাধারণ মানুষের বিশেষ নজর কাড়ছে।

যাদবপুরের রাজনৈতিক ইতিহাস বেশ বৈচিত্র্যময়। একসময়ের বামদুর্গ হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্রে ২০১১ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য পরাজিত হন। এরপর ২০১৬ সালে বামেরা আসনটি পুনরুদ্ধার করলেও ২০২১ সালে পুনরায় তৃণমূলের দখলে যায় এই কেন্দ্র। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই কেন্দ্রে আবারও ঘাসফুল শিবিরের আধিপত্য বজায় থাকবে নাকি নতুন কোনো পরিবর্তন আসবে, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। প্রচারের এই আদি ও অকৃত্রিম হাতিয়ার দেওয়াল লিখনই এখন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় কাউন্সিলরদের মতে, রাজনীতির জটিল তর্কের চেয়ে ছড়া বা কার্টুন সাধারণ মানুষকে অনেক বেশি আকৃষ্ট করে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে শুরু করে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের কথা ছন্দের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে, যা পথচলতি মানুষেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। শুধুমাত্র প্রার্থীর নাম বা চিহ্নের বদলে সৃজনশীল এই প্রচার কৌশলে মজেছেন আট থেকে আশি। ভোট যত এগিয়ে আসছে, যাদবপুরের দেওয়ালগুলো ততই রঙিন হয়ে উঠছে রাজনৈতিক বার্তা আর সৃজনশীল স্লোগানে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *