যিশুর পবিত্র কাপড়ে ভারতীয় ডিএনএর অস্তিত্ব ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য

যিশু খ্রিস্টের অন্তিম শয্যার পবিত্র বস্ত্র হিসেবে পরিচিত ‘শ্রাউড অফ তুরিন’ নিয়ে দীর্ঘদিনের রহস্যে নতুন মোড় এনেছেন ইতালির একদল গবেষক। সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, এই পবিত্র কাপড়ে থাকা মানুষের ডিএনএর প্রায় ৪০ শতাংশই ভারতীয় বংশোদ্ভূত। বিজ্ঞানীদের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য খ্রিস্টধর্মের সবচেয়ে পবিত্র নিদর্শনগুলোর একটির সঙ্গে প্রাচীন ভারতের এক গভীর ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গবেষকদের মতে, এই ডিএনএ প্রাপ্তির পেছনে বাণিজ্যিক কারণ থাকতে পারে। প্রাচীনকালে রোমান সাম্রাজ্যের সঙ্গে ভারতের উন্নত বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল। বিজ্ঞানীদের প্রাথমিক অনুমান, সিন্ধু উপত্যকা থেকে আসা উন্নত মানের সুতো ব্যবহার করেই হয়তো এই পবিত্র বস্ত্রটি বোনা হয়েছিল। সিল্ক রুটের মাধ্যমে ভারত থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে বস্ত্র রপ্তানি সেই সময়ে অত্যন্ত সাধারণ বিষয় ছিল, যা এই তত্ত্বে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এই গবেষণার ফলাফল কেবল বিজ্ঞানের জগতেই নয়, বরং ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বের ক্ষেত্রেও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গবেষকরা দীর্ঘ সময় ধরে এই কাপড়ে লেগে থাকা পরাগরেণু এবং ডিএনএ বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। ভারতের উত্তর ও পশ্চিম প্রান্তের মানুষের ডিএনএর সঙ্গে এই নমুনার অবিশ্বাস্য মিল পাওয়া গেছে, যা যিশুর সময়ের সমকালীন বস্ত্রশিল্প ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের এক অজানিত অধ্যায়কে সামনে নিয়ে এল।
তথ্য ও প্রযুক্তির আধুনিক মেলবন্ধনে এই রহস্যের সমাধান খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা আরও জানিয়েছেন যে, কাপড়ে পাওয়া এই ডিএনএ উপাদানগুলো মূলত প্রাচীন ভারতীয় জিনগত কাঠামোর সঙ্গে সম্পৃক্ত। যদিও বিষয়টি নিয়ে বিশ্বের অন্যান্য গবেষকদের মধ্যে দ্বিমত ও চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে, তবুও এই আবিষ্কার যিশুর পবিত্র বসনের ইতিহাসকে এক নতুন প্রেক্ষাপটে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। পাঠকদের মধ্যে এই খবরটি ইতিপূর্বেই ব্যাপক কৌতূহল ও বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।