যিশু খ্রিস্ট কি ভারতীয় ছিলেন, টুরিন কাপড়ের ডিএনএ পরীক্ষায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

যিশু খ্রিস্টের দেহাবশেষ জড়িয়ে রাখার জন্য ব্যবহৃত পবিত্র ‘শ্রাউড অফ টুরিন’ বা টুরিন কাপড় নিয়ে কয়েক শতাব্দী ধরে চলা রহস্যে নতুন মোড় এসেছে। সাম্প্রতিক এক ডিএনএ পরীক্ষায় এই পবিত্র বস্ত্রে ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষের জিনগত নিশান বা ডিএনএ-র উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এই আবিষ্কার বিজ্ঞান ও ইতিহাসের মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ইতালির পাডুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনতত্ত্ববিদ জিয়ানি বার্সিয়ার নেতৃত্বে একদল গবেষক এই বিশেষ সমীক্ষাটি চালিয়েছেন। গবেষণার জন্য তাঁরা কাপড়ের উপরিভাগে থাকা ধুলিকণা এবং পরাগরেণু থেকে সংগৃহীত ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণ করেন। এতে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে উদ্ভিদ ও মানুষের জিনগত গঠন পরীক্ষা করা হয়েছে, যা অভাবনীয় ফলাফল সামনে এনেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ওই কাপড়ে ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষের ডিএনএ-র আধিক্য রয়েছে। গবেষকদের ধারণা, কাপড়টি মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর আগে হয়তো ভারতে আনা হয়েছিল। অন্য একটি সম্ভাবনা হলো, এই কাপড় তৈরিতে ব্যবহৃত সুতো বা কাঁচামাল প্রাচীনকালে ভারত থেকে আমদানি করা হয়ে থাকতে পারে।
উল্লেখ্য যে, ১৯৮৮ সালের কার্বন ডেটিং পরীক্ষায় দাবি করা হয়েছিল যে এই কাপড়টি ১২৬০ থেকে ১৩৯০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ের এবং এটি একটি মধ্যযুগীয় জালিয়াতি। তবে বর্তমান জিনতাত্ত্বিক গবেষণা সেই তত্ত্বকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। যদি কাপড়টি ভারত হয়ে ইউরোপে গিয়ে থাকে, তবে এর প্রাচীনত্ব কার্বন ডেটিংয়ের ফলাফলের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।
এই আবিষ্কার প্রাচীন বিশ্বের বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার এক নতুন দিক উন্মোচন করেছে। সিল্ক রুটের মাধ্যমে ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে যে গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল, কাপড়ে পাওয়া ভারতীয় উদ্ভিদের ডিএনএ সেই দাবিকেই জোরালো করছে। এটি প্রমাণ করে যে কয়েকশ বছর ধরে এই পবিত্র বস্ত্রটি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পরিভ্রমণ করেছে।
টুরিন কাপড়টি যিশুর প্রকৃত কাফন কি না, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এতে পাওয়া ‘ভারতীয় সংযোগ’ ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় যোগ করেছে। এই তথ্যটি প্রাচীন ভারতের সাথে মধ্যপ্রাচ্যের সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক বিনিময়ের অকাট্য প্রমাণ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। যিশু খ্রিস্টের জীবনের সাথে ভারতের কোনো পরোক্ষ যোগসূত্র ছিল কি না, তা নিয়ে এখন নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।