যুদ্ধের আঁচ এবার পড়ুয়াদের পাতে গৌড়বঙ্গের স্কুলে মিড ডে মিল বন্ধ হয়ে বিলি হচ্ছে কাজু ও খেজুর

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আবহে রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকটে বিপাকে পড়েছে গৌড়বঙ্গের স্কুলগুলি। সিলিন্ডার না মেলায় বহু স্কুলে মিড ডে মিল রান্না বন্ধ হওয়ার জোগাড়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে পড়ুয়াদের দুপুরের খাবারের বদলে কাজু, কিশমিশ ও খেজুরের মতো শুকনো খাবার বা ড্রাই ফ্রুটস বিতরণ করতে বাধ্য হচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
বালুরঘাট হাইস্কুলে রান্না চলাকালীন গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ায় নতুন সিলিন্ডার না পেয়ে পড়ুয়াদের শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। একই চিত্র বালুরঘাট শহরের আশুতোষ বালিকা বিদ্যালয়েও, যেখানে মজুত গ্যাস দিয়ে আর মাত্র তিনদিন রান্না সম্ভব। মালদার ইংলিশবাজার ব্লকের শোভানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতি মাসে আটটি সিলিন্ডার লাগে, কিন্তু নতুন নিয়ম অনুযায়ী ২৫ দিনের আগে বুকিং সম্ভব না হওয়ায় অনিশ্চয়তার মুখে ১৩০০ পড়ুয়ার খাবার। গ্রামীণ এলাকায় বিকল্প জ্বালানি মিললেও শহরের স্কুলগুলি সম্পূর্ণ সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে শিক্ষক মহলে।
যুদ্ধের প্রভাব শুধু স্কুলেই সীমাবদ্ধ নেই, টান পড়েছে মন্দিরের ভোগেও। উত্তর কলকাতার বাগবাজারে সারদা মায়ের বাড়ি এবং তমলুকের বর্গভীমা মন্দিরেও জ্বালানি সংকটে প্রসাদ বিতরণ বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যিক গ্যাসের আকালে রাজ্যের জেলাগুলিতেও হাজার হাজার হোটেল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশাসন সিলিন্ডার জোগাড়ে চেষ্টা চালালেও পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান নিয়ে চিন্তিত সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ।