যুদ্ধের আবহে মোদির ইজরায়েল সফর কি ভারতের জন্য নয়া বিপদ ডেকে আনবে

নিউজ ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই দু’দিনের সফরে তেল আভিভে পা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তবে এই সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান ডামাডোলে কার্যত সরু সুতোর ওপর দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে নয়াদিল্লিকে।
তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ইজরায়েল সফর। সরকারি সূত্রে খবর, প্রতিরক্ষা, কৃষি এবং সন্ত্রাসবাদ দমনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এমনকি ইজরায়েলের সংসদেও ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে মোদির। কিন্তু এই বন্ধুত্বের নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে এক জটিল সমীকরণ।
ইজরায়েল চাইছে ভারতের সহযোগিতায় মধ্যপ্রাচ্যে একটি শক্তিশালী ‘ষড়ভুজ’ জোট গড়তে, যা মূলত উগ্রপন্থী সংগঠন ও তাদের মদতদাতাদের রুখে দেবে। বিশেষ করে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের ‘ইসলামিক নেটো’ পরিকল্পনার পাল্টা হিসেবে এই জোটকে দেখছেন অনেকে।
ভারতের জন্য এই কৌশলগত জোট সামরিক দিক থেকে লাভজনক হলেও মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। একদিকে যেমন ইজরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা প্রয়োজন, তেমনই ইরানের মতো পুরনো বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্ক চটানো ভারতের পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা এখন মোদি সরকারের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। অতিরিক্ত ইজরায়েল ঘনিষ্ঠতা যেন আরব বিশ্বের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কে ফাটল না ধরায়, সেদিকেই এখন কড়া নজর রাখছে সাউথ ব্লক।