যুদ্ধের মেঘেও ভারতের জয়গান! এডিবি-র সতর্কবার্তা সত্ত্বেও উঁচুতে থাকবে জিডিপি-র পারদ

পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ভারতের অর্থনীতির গতিপথ নিয়ে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) এবং বিশ্ব ব্যাঙ্কের পর এবার এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক (ADB) একই ধরনের সতর্কবার্তা জারি করেছে। সংস্থাটির সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে স্পষ্ট যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে ভারতের মূল্যবৃদ্ধি ও আর্থিক প্রবৃদ্ধির ওপর এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ঝুঁকির মুখে কেন ভারতের অর্থনীতি
পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা শুধুমাত্র একটি ভৌগোলিক সমস্যা নয়, বরং বিশ্ববাজারের জটিল সমীকরণের সঙ্গে এটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ADB-র মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ভারত তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে:
- জ্বালানি তেলের চড়া দাম: আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে ভারতের আমদানি ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যায়, যা অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম এবং সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধিকে উসকে দেয়।
- বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থা: যুদ্ধের কারণে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণে বিঘ্ন ঘটলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে লোহিত সাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথগুলোতে অস্থিরতা থাকলে পরিবহণ খরচ এবং সময়—উভয়ই বৃদ্ধি পায়।
- বিদেশি অর্থ প্রবাহের টানাপোড়েন: পশ্চিম এশিয়ায় কর্মরত অনাবাসী ভারতীয়দের থেকে আসা অর্থের (Remittance) ওপর ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার অনেকটা নির্ভরশীল। সংঘাত বাড়লে এই প্রবাহ ব্যাহত হতে পারে।
স্থিতিশীলতার আশার আলো
তীব্র বিশ্বজনীন অস্থিরতা সত্ত্বেও ভারতের জন্য ইতিবাচক খবর হলো এর শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি। ADB-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদার জোর এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের গতি প্রবৃদ্ধিকে ধরে রাখবে।
সংস্থাটির প্রাক্কলন বলছে, চলতি অর্থবর্ষে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার থাকতে পারে ৬.৯ শতাংশ। এমনকি আগামী বছর এই প্রবৃদ্ধি আরও গতি পেয়ে ৭.৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করছে ADB। অর্থাৎ, বহিঃশুল্ক ও ভূ-রাজনৈতিক চাপ থাকলেও ভারতের নিজের অভ্যন্তরীণ বাজার এই ধাক্কা সামলানোর ক্ষমতা রাখে।
একঝলকে
মূল শক্তি: ভারতের শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও পরিকাঠামোগত ভিত্তি।
সতর্কবার্তা: পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধিতে ঝুঁকির সম্ভাবনা।
প্রধান আশঙ্কার কারণ: জ্বালানির চড়া দাম, বাণিজ্য সংকট এবং বিদেশ থেকে আসা অর্থ প্রবাহ কমে যাওয়া।
চলতি অর্থবর্ষের পূর্বাভাস: ভারতের সম্ভাব্য আর্থিক বৃদ্ধি ৬.৯ শতাংশ।
আগামী বছরের পূর্বাভাস: প্রবৃদ্ধি আরও বেড়ে ৭.৩ শতাংশ হওয়ার সম্ভাবনা।