যুদ্ধ পরিস্থিতির আবহে আমেরিকায় তোলপাড় মার্কিন সেনাপ্রধানকে বরখাস্ত করলেন প্রতিরক্ষা সচিব

যুদ্ধ পরিস্থিতির আবহে আমেরিকায় তোলপাড় মার্কিন সেনাপ্রধানকে বরখাস্ত করলেন প্রতিরক্ষা সচিব

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যকার তীব্র সংঘাতের মাঝেই এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের সাক্ষী হলো আমেরিকা। যুদ্ধের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন সেনাপ্রধান জেনারেল র‍্যান্ডি জর্জকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময়ে এই নাটকীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। সেনাপ্রধানকে অবিলম্বে পদত্যাগ করে অবসরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

পেন্টাগনের এক পদস্থ আধিকারিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন যে, সেনাপ্রধান র‍্যান্ডি জর্জকে তার মেয়াদের আগেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে তিনি মার্কিন সেনার ‘চিফ অফ স্টাফ’ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। সাধারণত ২০২৭ সাল পর্যন্ত তার এই পদে থাকার কথা ছিল। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন বর্তমান প্রশাসন এবং প্রতিরক্ষা সচিব হেগসেথের সামরিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সংগতি রেখে কাজ করতে সক্ষম এমন একজন নেতার সন্ধানেই এই আকস্মিক রদবদল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশেষ করে ইরান সংকটের ক্ষেত্রে রণকৌশল ও চিন্তাধারার অমিল এই সিদ্ধান্তের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উঠে আসছে। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময়কালে র‍্যান্ডি জর্জকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি ছিলেন একজন অভিজ্ঞ পদাতিক আধিকারিক এবং ওয়েস্ট পয়েন্টের মার্কিন সামরিক অ্যাকাডেমির স্নাতক। উপসাগরীয় যুদ্ধ থেকে শুরু করে ইরাক ও আফগানিস্তানের মতো বড় ধরনের সামরিক অভিযানে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তা সত্ত্বেও বর্তমান প্রশাসনের নতুন প্রতিরক্ষা কৌশলের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারায় তাকে সরিয়ে দেওয়া হলো।

র‍্যান্ডি জর্জের বিদায়ের পর মার্কিন সেনার অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান বা ভারপ্রাপ্ত ‘চিফ অফ স্টাফ’ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন জেনারেল ক্রিস্টোফার লা নেভ। বর্তমানে তিনি মার্কিন সেনার ভাইস চিফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। লা নেভকে প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের ঘনিষ্ঠ এবং পূর্বতন সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর আগে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল লা নেভকে একজন দক্ষ এবং অভিজ্ঞ যুদ্ধনেতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যিনি বর্তমান প্রশাসনের অগ্রাধিকারগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে সক্ষম।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সামরিক নেতৃত্বের এই পরিবর্তন সরাসরি ইজরায়েল-ইরান যুদ্ধের গতিপ্রকৃতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের দূরদৃষ্টি এবং সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অনুগত ও সমমনোভাবাপন্ন কমান্ডারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিলেন। জেনারেল র‍্যান্ডি জর্জের এই বাধ্যতামূলক অবসর মূলত মার্কিন সামরিক ব্যবস্থার শীর্ষস্তরে বড় ধরনের পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুদ্ধের এই সংকটকালীন মুহূর্তে সেনাপ্রধান পরিবর্তনের প্রভাব আগামি দিনে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই নজর রাখছে বিশ্ব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *