যুবসাথী উপভোক্তাদের জন্য কর্মসংস্থানের বড় প্রতিশ্রুতি মমতার

মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জের এক জনসভা থেকে যুবসাথী প্রকল্পের আবেদনকারীদের জন্য বড়সড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের কর্মসংস্থান ও আবাস যোজনা নিয়ে একগুচ্ছ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। এই জনসভা থেকে মূলত তরুণ প্রজন্ম ও গ্রামীণ মানুষের জন্য এক বিশেষ আশার বার্তা দিয়েছেন প্রশাসনিক প্রধান।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, যুবসাথী প্রকল্পের অধীনে যারা বর্তমানে মাসিক ভাতা পাচ্ছেন, রাজ্য সরকার কেবল সেই ভাতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আগামী দিনে এই প্রকল্পের উপভোক্তাদের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থান বা জীবিকার সুব্যবস্থা করার দায়িত্ব নেবে সরকার। বেকার যুবক-যুবতীদের স্বাবলম্বী করে তোলাই যে প্রশাসনের মূল লক্ষ্য, সেই বিষয়টি তিনি স্পষ্ট করে দেন।
আবাস যোজনার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যে এখনও যে সমস্ত কাঁচা বাড়ি বাকি রয়েছে, পুনরায় ক্ষমতায় এলে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের মাধ্যমে সেই সমস্ত বাড়ি পাকা করে দেওয়া হবে। মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং এই প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রথাগত জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও নিবিড় করতে এক নতুন ভাবনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ‘দুয়ারে স্বাস্থ্য’ নামে একটি সম্ভাব্য প্রকল্পের ইঙ্গিত দেন। এর ফলে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আরও সহজে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমান সরকারি পরিষেবাগুলিকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলাই এর উদ্দেশ্য।
শমসেরগঞ্জের এই সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এহেন ঘোষণা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। সরাসরি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি যেমন যুবকদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিলেন, তেমনই আবাসন ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঘোষণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের আশ্বাসও বজায় রাখলেন।
সামগ্রিকভাবে, যুবসাথী প্রকল্পের ভাতা প্রাপকদের জন্য চাকরির সুযোগ তৈরি করার এই নতুন দিশা রাজ্যের কর্মসংস্থান মানচিত্রে এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে। রাজ্য সরকারের এই পরিকল্পনাগুলি বাস্তবায়িত হলে তা গ্রামীণ অর্থনীতির পাশাপাশি তরুণ সমাজের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বিশেষ সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।