রক্তাক্ত তেহরান: গুঁড়িয়ে গেল মহাত্মা গান্ধী হাসপাতাল, ধ্বংসস্তূপে শিশুদের আর্তনাদ!

রক্তাক্ত তেহরান: গুঁড়িয়ে গেল মহাত্মা গান্ধী হাসপাতাল, ধ্বংসস্তূপে শিশুদের আর্তনাদ!

ইরান এবং ইজরায়েল-আমেরিকা জোটের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এখন এক চরম মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি তেহরানের বিখ্যাত মহাত্মা গান্ধী হাসপাতালে হওয়া ভয়াবহ হামলা বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় তুলেছে। গত ৪০ দিন ধরে চলা এই যুদ্ধে সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি স্কুল ও হাসপাতালের মতো বেসামরিক ক্ষেত্রগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে ইরান অভিযোগ করেছে। বিশেষ করে ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড় যোগসূত্র থাকা এই হাসপাতালের ধ্বংসযজ্ঞ মানবিক মূল্যবোধের ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হামলার ভয়াবহতা ও বর্তমান পরিস্থিতি

ইরানি দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা ভিডিও ফুটেজে গান্ধী হাসপাতালের বর্তমান কঙ্কালসার চেহারা ফুটে উঠেছে। মিসাইল হামলার পর হাসপাতালের ছাদ থেকে ধ্বংসাবশেষ খসে পড়ছে এবং চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ভাঙা হুইলচেয়ার ও চিকিৎসা সরঞ্জাম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এই ক্ষয়ক্ষতির সত্যতা নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, হামলার সময় হাসপাতালে অসংখ্য রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন, যাদের প্রাণ বাঁচাতে তড়িঘড়ি করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

শিশুদের চিকিৎসায় অন্যতম প্রধান কেন্দ্র

২০০৮-২০০৯ সালে ইরানি চিকিৎসকদের একটি উদ্যোগের মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই হাসপাতালটি ছিল ইরানের বৃহত্তম বেসরকারি মেডিকেল কমপ্লেক্স। এটি মূলত শিশুদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত ছিল। কেবল স্থানীয় নয়, বিদেশ থেকেও রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসতেন। গাজা উপত্যকার মতো এখানেও চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার যে কৌশল ইজরায়েল নিয়েছে, তা সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।

মহাত্মা গান্ধীর নামে নামকরণের তাৎপর্য

ইরানে মহাত্মা গান্ধী শান্তি ও অহিংসার প্রতীক হিসেবে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয়। তেহরানের যে রাস্তায় এই হাসপাতালটি অবস্থিত, তার নামও গান্ধীর সম্মানে ‘গান্ধী স্ট্রিট’ রাখা হয়েছে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে গান্ধীর সংগ্রামের প্রতি সম্মান জানাতে এবং ভারতের সঙ্গে সাংস্কৃতিক বন্ধন সুদৃঢ় করতেই এই আধুনিক ‘গান্ধী হোটেল-হাসপাতাল’ নির্মাণ করা হয়েছিল। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলাকে ইরানের সাধারণ মানুষ তাদের সাংস্কৃতিক চেতনার ওপর আঘাত হিসেবে গণ্য করছে।

যুদ্ধ ও সম্ভাব্য প্রভাব

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই বিমান অভিযানে ইরানের দাবি অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ৬০০টি হাসপাতাল এবং ৬০টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চললেও, গান্ধী হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে হামলার ক্ষত ইরান সহজে কাটিয়ে উঠতে পারবে না। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মাত্রা আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।

একঝলকে

  • আক্রান্ত স্থান: তেহরানের মহাত্মা গান্ধী হাসপাতাল (ইরানের বৃহত্তম বেসরকারি মেডিকেল কমপ্লেক্স)।
  • হামলার ধরন: ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ বিমান হামলা।
  • প্রতিষ্ঠাকাল: ২০০৮-২০০৯ সালে শিশুদের বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য নির্মিত।
  • ক্ষয়ক্ষতি: ভবনটি প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে; চিকিৎসা সরঞ্জাম ও পরিকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।
  • বর্তমান অবস্থা: ৪০ দিনের যুদ্ধের পর বর্তমানে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *