রণবীর সিংয়ের ‘ধুরন্ধর ২’: উগ্র হিংসা ও জাতীয়তাবাদের আবর্তে একপাক্ষিক বিনোদন

আদিত্য ধর পরিচালিত বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। প্রথম কিস্তির সাফল্যের পর সিক্যুয়েলটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে উন্মাদনা থাকলেও, ছবিটিতে গল্পের চেয়ে অ্যাকশন ও রক্তক্ষয়ী হিংসাকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। প্রায় চার ঘণ্টার এই দীর্ঘ লড়াইয়ে রণবীর সিংয়ের পেশিবহুল উপস্থিতি ও দুর্ধর্ষ অ্যাকশন দর্শকদের নজর কেড়েছে, যা আদতে একটি ‘ওয়ার-পর্ন’ ঘরানার সিনেমা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ছবিটিতে উগ্র জাতীয়তাবাদ ও প্রোপাগান্ডার মিশেল স্পষ্ট। সার্জিক্যাল স্ট্রাইক থেকে শুরু করে নোটবন্দির মতো প্রসঙ্গের পাশাপাশি পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদীদের মুখ দিয়ে বিশেষ স্লোগান বলানোর মাধ্যমে দর্শকদের আবেগ উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন নির্মাতারা। চিত্রনাট্যের বাঁধুনি দুর্বল হলেও উগ্র দেশপ্রেম ও হিংসার এই ফর্মুলা বক্স অফিসে সাফল্য পাওয়ার লক্ষ্যেই তৈরি বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সমালোচকরা।
লিঙ্গ বৈষম্যের নিরিখেও ছবিটি সমালোচনার মুখে পড়েছে। পুরো সিনেমায় নারীদের উপস্থিতি অত্যন্ত সীমিত এবং তাঁদের কেবল অসহায় বা পারিবারিক পরিচয়েই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে, ‘ধুরন্ধর ২’ একটি স্পাই থ্রিলার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও শেষ পর্যন্ত তা কেবল হিংসার উদযাপনেই আটকে গিয়েছে। পেশিবহুল শরীরের প্রদর্শন আর মারপিটের আধিক্য প্রথম পর্বের চমককে অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে।