রাঘব চাড্ডাকে ডেপুটি লিডার পদ থেকে সরালো আম আদমি পার্টি

আম আদমি পার্টির (আপ) অন্দরে দীর্ঘদিনের চাপা উত্তেজনা এবার প্রকাশ্যে চলে এল। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় দলের উপনেতা বা ডেপুটি লিডার পদ থেকে সাংসদ রাঘব চাড্ডাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর পরিবর্তে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পাঞ্জাবের সাংসদ অশোক মিত্তলকে। এই রদবদলের পরেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে রাঘবের সংঘাত চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে।
পদ হারানোর পর রাঘব চাড্ডা সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে তাঁর ‘নীরবতা’ নিয়ে সাফাই দেন। তিনি দাবি করেন, তাঁকে খামোশ বা স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তিনি হার মানেননি। তবে তাঁর এই মন্তব্যের পাল্টায় আক্রমণাত্মক মেজাজে অবতীর্ণ হন দলের দুই হেভিওয়েট নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ ও অতিশি। তাঁরা সরাসরি রাঘবের রণকৌশল ও সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
দিল্লির মন্ত্রী সৌরভ ভরদ্বাজ কড়া ভাষায় রাঘবকে আক্রমণ করে বলেন, ‘যে ভয় পেয়েছে, সে শেষ’। তিনি স্পষ্ট জানান, আপ কর্মীরা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সৈনিক এবং তাঁরা বুক চিতিয়ে লড়াই করতে জানেন। সৌরভের অভিযোগ, রাঘব গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু এড়িয়ে গিয়ে সংসদে শুধুমাত্র নিজের ভাবমূর্তি বা ‘সফট পিআর’ তৈরিতে ব্যস্ত ছিলেন। যখন দেশে বড় সংকট চলছে, তখন রাঘবের এমন আচরণ দলের আদর্শ বিরোধী।
অন্যদিকে, অতিশি মারলেনা প্রশ্ন তুলেছেন রাঘবের বিজেপি বিরোধী অবস্থান নিয়ে। তাঁর দাবি, এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্যবৃদ্ধি বা পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্রের সংকটের মতো ইস্যুগুলোতে রাঘব সংসদে নীরব ছিলেন। অতিশি মনে করিয়ে দেন, যখন কেজরিওয়ালসহ দলের শীর্ষ নেতারা জেলে ছিলেন, তখন রাঘব লন্ডনে চোখের অস্ত্রোপচারের দোহাই দিয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি সরাসরি জানতে চান, রাঘব কেন বিজেপি বা মোদীকে প্রশ্ন করতে ভয় পাচ্ছেন।
এই সংঘাতের ফলে আপ-এর অভ্যন্তরীণ ফাটল এখন স্পষ্ট। দলের একাংশ মনে করছে, রাঘব চাড্ডা বিজেপির প্রতি নরম মনোভাব দেখাচ্ছেন, যা দলের লড়াকু ভাবমূর্তির পরিপন্থী। অন্যদিকে, রাঘবের সমর্থকরা একে পরিকল্পিত কোণঠাসা করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। সংসদীয় রাজনীতিতে আপ-এর এই নতুন সমীকরণ ও ‘ভীতু’ বনাম ‘সৈনিক’ বিতর্ক এখন ভারতের রাজনৈতিক মহলে তুঙ্গে।