রাজগঞ্জের নির্বাচনী রণক্ষেত্রে ‘সোনার মেয়ে’ স্বপ্নার জোড়া সারথি

চৈত্র মাসের তপ্ত রোদের মাঝেও রাজগঞ্জের চা বলয়ে এখন নির্বাচনী উত্তাপ তুঙ্গে। ডোয়্যার্সের চা বাগান থেকে হাটবাজার—সর্বত্রই আলোচনার কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের তারকা প্রার্থী তথা এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদক জয়ী স্বপ্না বর্মন। স্থানীয় ভোটারদের মতে, হেভিওয়েট নেতা খগেশ্বর রায় এবং দলের দক্ষ সংগঠনই স্বপ্নার জয়ের প্রধান কারিগর বা ‘সারথি’ হিসেবে কাজ করছে। রাজবংশী সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে নিজের মাটির লড়াইয়ে জেতার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী এই অ্যাথলিট।
প্রচারে খগেশ্বর রায় ও স্থানীয় নেতৃত্ব কোমর বেঁধে নামলেও, বাবার মৃত্যুজনিত কারণে স্বপ্না নিজে এখনও সেভাবে ময়দানে নামতে পারেননি। তবে রাজগঞ্জে গত কয়েক বছরে হওয়া রাস্তাঘাট, সেতু ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন শাসক দলের বড় হাতিয়ার। অন্যদিকে, বিজেপি ও বাম প্রার্থীরাও কৃষি ও চা বাগান এলাকায় জোরদার প্রচার চালাচ্ছেন। বিজেপি মূলত দলীয় প্রতীকের ওপর ভরসা রাখছে, আর সিপিএম প্রার্থী নিবিড় জনসংযোগের মাধ্যমে হারানো জমি ফিরে পেতে মরিয়া।
উন্নয়নের জোয়ার থাকলেও বেলাকোবা রেলগেটের যানজট ও উড়ালপুল না হওয়ার সমস্যা রাজগঞ্জের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে চলছে জোরদার কাদা ছোড়াছুড়ি। সাধারণ মানুষ এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি চাইছেন। দীর্ঘদিনের বিধায়ক খগেশ্বর রায়ের অভিজ্ঞতা এবং স্বপ্নার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা—এই দুইয়ের মেলবন্ধনে রাজগঞ্জের উর্বর রাজনৈতিক জমিতে তৃণমূল পুনরায় ‘সোনা’ ফলাতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।