রাজনীতির ‘কাজী’ আদিবাসী পরিবার: পাঁচ বছরেও জোটেনি প্রতিশ্রুতি, সম্বল শুধু অবহেলা

শালবনীর বালিজুড়ি গ্রামের ঝুনু সিংয়ের মাটির দাওয়ায় বসে একসময় মধ্যাহ্নভোজ সেরেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ২০২০ সালের সেই হাই-প্রোফাইল সফরের পর কেটে গেছে পাঁচটি বছর, কিন্তু জঙ্গলমহলের এই আদিবাসী পরিবারের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। উল্টো ক্ষোভ উগরে দিয়ে পরিবারটি জানিয়েছে, ভোট মিটতেই তাঁদের কথা ভুলে গেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশ্রামের সেই জরাজীর্ণ খাটিয়াটি সারানোর সামর্থ্যটুকুও আজ তাঁদের নেই।
বর্তমানে তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রকল্পের সৌজন্যে পাওয়া পাকা বাড়িতে কোনোমতে দিন গুজরান করছেন ঝুনু ও তাঁর স্ত্রী। অভাবের তাড়নায় এখন তাঁরা রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ থেকেও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। ঝুনুর আক্ষেপ, সে সময় তাঁদের আবেগ নিয়ে খেলা করা হয়েছিল মাত্র। বর্তমানে সরকারি রেশন এবং লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সামান্য সহায়তাই এই আদিবাসী দম্পতির টিকে থাকার একমাত্র অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরগরম মেদিনীপুরের রাজনীতি। তৃণমূল ও বাম নেতৃত্ব এই ঘটনাকে বিজেপির ‘ধাপ্পাবাজি’ এবং গরিব মানুষের আবেগকে ব্যবহারের নজির হিসেবে দেখছেন। পাল্টা জবাবে বিজেপি নেতৃত্ব ইভিএমে জনগনের রায়ের ওপর ভরসা রাখলেও, বালিজুড়ির আদিবাসী পরিবারটির বঞ্চনার চিত্রটি জঙ্গলমহলের রাজনৈতিক সমীকরণে এক অস্বস্তিকর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।