রাজ্যসভায় খারিজ ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব, স্বপদে বহাল থাকছেন মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার

দেশের মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আনা ইমপিচমেন্ট বা অভিশংসন প্রস্তাব খারিজ করে দিলেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান। দীর্ঘ আইনি পর্যালোচনা ও বিবেচনার পর এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে জ্ঞানেশ কুমারের পদ আপাতত সুরক্ষিত রইল এবং তাঁর বিরুদ্ধে অপসারণ প্রক্রিয়াটি এখানেই থমকে গেল।
গত ১২ মার্চ রাজ্যসভায় এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়েছিল। মোট ১৯৩ জন সাংসদের স্বাক্ষর সম্বলিত এই প্রস্তাবটি জমা পড়ার পর রাজ্যসভার চেয়ারম্যান বিষয়টির প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখেন। সংসদীয় নিয়ম ও সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো বিশদে পর্যালোচনার পর জানানো হয় যে, এই প্রস্তাবটি গ্রহণের মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি নেই।
মূলত বিচারপতি (তদন্ত) আইন, ১৯৬৮-এর ধারা ৩ অনুযায়ী প্রাপ্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। সংসদ সূত্রের দাবি, সম্পূর্ণ আইনি কাঠামো মেনে এবং নিরপেক্ষভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিরোধীরা তাঁর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও অসদাচরণের যে অভিযোগ এনেছিল, তা ধোপে টেকেনি।
উল্লেখ্য, বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মোট সাতটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল। যার মধ্যে নির্বাচনী জালিয়াতি, ভোটাধিকার হরণ এবং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিশেষ করে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল বিরোধী দলগুলো।
বিরোধীদের দাবি ছিল, মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার হিসেবে তিনি নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে শাসকদলের পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের মতে, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং তার কাজকর্মে হস্তক্ষেপ করার কোনো অবকাশ নেই।
এই প্রস্তাব খারিজ হওয়ার ফলে জ্ঞানেশ কুমারের কার্যকাল স্বাভাবিকভাবেই অব্যাহত থাকছে। রাজনৈতিক মহলে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। সাংবিধানিক এই সংঘাতের অবসান ঘটলেও দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া ও নিরপেক্ষতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক বজায় রয়েছে।