রাজ্যসভায় ব্রাত্য রাঘব চাড্ডা, আপের পদ হারিয়েই কি দলবদলের পথে

রাজ্যসভায় আম আদমি পার্টির ডেপুটি লিডারের পদ হারালেন রাঘব চাড্ডা। সম্প্রতি অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দলের এই সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। আপের পক্ষ থেকে রাজ্যসভার সচিবালয়ে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে যে, রাঘবের বদলে অশোক মিত্তলকে এই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে দলের অন্য একটি আবেদনে, যেখানে রাঘবকে সংসদে বলার সুযোগ না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে আপ নেতৃত্ব।
দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে এই ইস্যুতে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন রাঘব চাড্ডা। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সাধারণ মানুষের স্বার্থে সংসদে কথা বলা কি অপরাধ? তাঁর মতে, যখনই সুযোগ পেয়েছেন তিনি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী বিষয় তুলে ধরেছেন। রাঘব স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তাঁর এই বর্তমান স্তব্ধতাকে যেন কেউ দুর্বলতা বা হেরে যাওয়া বলে ভুল না করেন।
সংসদে রাঘবের ভাষণগুলি বরাবরই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। বিমানবন্দরে খাবারের চড়া দাম, জোম্যাটো বা ব্লিঙ্কিটের রাইডারদের সমস্যা কিংবা মধ্যবিত্তের ট্যাক্স ও টেলিকম সংস্থাগুলোর কারচুপি নিয়ে তাঁর বক্তব্য জনমানসে সাড়া ফেলেছিল। রাঘবের দাবি, তিনি সাধারণ মানুষের কথা বলেন বলেই হয়তো কেউ তাঁর কণ্ঠরোধ করতে চাইছে। দলের এই পদক্ষেপে তিনি দৃশ্যত ম্রিয়মাণ হলেও মানুষের সমর্থনের ওপর ভরসা রাখছেন।
দলের নির্দেশনায় এখন থেকে রাজ্যসভায় আপের জন্য বরাদ্দ সময়ে রাঘব চাড্ডা আর বক্তব্য রাখতে পারবেন না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ রাঘবের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। দলের সঙ্গে তাঁর ক্রমবর্ধমান দূরত্ব কি শেষ পর্যন্ত দলবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসেনি।
পুরো ঘটনায় আম আদমি পার্টির অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নতুন মোড় নিল। যেখানে রাঘব নিজেকে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করছেন, সেখানে দলের এই কঠোর অবস্থান তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার। আপাতত সাধারণ মানুষের কাছে ভালোবাসা ও সমর্থনের আবেদন জানিয়ে নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন এই যুবনেতা।