রাজ্যসভা নির্বাচনে কি ষষ্ঠ প্রার্থীর চমক? মনোনয়ন ঘিরে তৃণমূল ও বিজেপির অন্দরে প্রবল তৎপরতা

পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার শূন্য আসনগুলি পূরণের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি হতেই বিধানসভায় সাজ সাজ রব। বৃহস্পতিবার থেকেই শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী দল বিজেপি—উভয় পক্ষই তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র তৈরির কাজ পুরোদমে শুরু করে দিয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলে এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন, শেষ মুহূর্তে কি কোনও পক্ষ ‘ষষ্ঠ প্রার্থী’ দাঁড় করিয়ে অঙ্কের খেলায় টুইস্ট আনবে? এই সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেই এগোচ্ছে দুই শিবির।
তৎপরতা তুঙ্গে বিধানসভায়
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বিধানসভায় দুই দলের পরিষদীয় কক্ষে বিধায়কদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রার্থীদের জন্য বিধায়কদের প্রস্তাবক হিসেবে স্বাক্ষর করতে হয়। এদিন নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠক থাকায় সকালেই ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ রায় এবং বাবুল সুপ্রিয়র মতো হেভিওয়েট মন্ত্রীরা এসে স্বাক্ষর সেরে যান। উপস্থিত ছিলেন মানিক ভট্টাচার্য, সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দেবাশিস কুমারের মতো বিধায়করাও। তবে কতজন প্রার্থীর জন্য এই প্রস্তুতি চলছে, তা নিয়ে স্পিকটি নট তৃণমূলের মুখ্যসচেতক নির্মল ঘোষ।
বিজেপির স্ট্র্যাটেজি ও ‘ডামি’ প্রার্থী
একই ছবি ধরা পড়েছে বিজেপি শিবিরেও। সুকুমার দে, অনুপ সাহাদের মতো বিজেপি বিধায়করা এদিন প্রস্তাবক হিসেবে সই করেছেন। অতীতে দেখা গিয়েছে, বিজেপি মূল প্রার্থীর পাশাপাশি একজন ‘ডামি’ প্রার্থী রাখে, যাতে স্ক্রুটিনিতে মূল প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হলেও লড়াই জারি রাখা যায়। এবারও সেই পথে তারা হাঁটবে কি না, তা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে পদ্ম শিবির।
ভোটের অঙ্ক ও ১৬ মার্চের লড়াই
বর্তমান বিধায়ক সংখ্যার নিরিখে তৃণমূলের চারজন এবং বিজেপির একজনের জয় কার্যত নিশ্চিত। গোলমাল বাঁধতে পারে যদি কোনও পক্ষ ষষ্ঠ প্রার্থী দেয়। যদি শুধুমাত্র এই পাঁচজনই মনোনয়ন জমা দেন, তবে ভোটাভুটির প্রয়োজন হবে না। কিন্তু অতিরিক্ত প্রার্থী ময়দানে নামলেই আগামী ১৬ মার্চ বিধানসভায় রুদ্ধশ্বাস নির্বাচনের সাক্ষী থাকবে রাজ্য রাজনীতি। রিটার্নিং অফিসার তথা বিধানসভার সচিব সৌমেন্দ্রনাথ দাসের কাছে মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার।