রাজ্যের বিচারকদের জন্য নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে নবান্ন

রাজ্যের বিচারকদের জন্য নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে নবান্ন

মালদার কালিয়াচকে সাম্প্রতিক অবরোধ ও বিক্ষোভের জেরে বিচারকদের অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনায় রাজ্যের বিচারব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। খোদ দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টও এই পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে উদ্বেগ প্রকাশ করায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধন ও নিষ্পত্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজে যুক্ত বিচারকদের সুরক্ষা এখন বিচার বিভাগ ও সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিচারকদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এই আলোচনায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনা নিয়েও গুরুত্ব সহকারে বিচার-বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কালিয়াচকের অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতার পর বিচারকদের কর্মক্ষেত্রে এবং যাতায়াতের পথে যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে না হয়, সেই বিষয়টিই বর্তমানে অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এদিনের বৈঠকে রাজ্যের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে। প্রশাসনিক আধিকারিকরা জানিয়েছেন, রাজ্যের সমস্ত বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের জন্য পর্যাপ্ত ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে। বিচারপ্রক্রিয়া সচল রাখতে এবং আইনি কর্মকর্তাদের মনোবল অটুট রাখতে যা যা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, রাজ্য সরকার তা দ্রুত বাস্তবায়ন করবে।

রাজ্যে বিচারকদের ওপর হামলার ঘটনা বা তাঁদের দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার মতো ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছিল। সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সংবেদনশীল কাজে লিপ্ত থাকা আধিকারিকরা যাতে নির্ভয়ে কাজ করতে পারেন, সেই বার্তা দিতেই এই বৈঠকের আয়োজন। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ফাঁক রাখা হবে না বলে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

হাইকোর্ট ও নবান্নের এই সমন্বয়ী পদক্ষেপ বিচারকদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। মূলত স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে বিচারকদের যাতায়াত এবং আবাসন চত্বরে পুলিশি টহল বাড়ানোর পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। রাজ্যের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া মেলায় নিরাপত্তা নিয়ে সাময়িক দুশ্চিন্তা কাটলেও, আগামী দিনে এই প্রতিশ্রুতি কতটা কার্যকর হয় সেদিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *