রাজ্যের ভোটার তালিকায় ব্যাপক কাটছাঁট, নাম বাদ পড়ায় শীর্ষে থাকা ১০ জেলার তালিকা দেখুন

রাজ্যের ভোটার তালিকায় ব্যাপক কাটছাঁট, নাম বাদ পড়ায় শীর্ষে থাকা ১০ জেলার তালিকা দেখুন

পশ্চিমবঙ্গের সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ পড়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার আওতায় থাকা ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের মধ্যে ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার জনের নাম তালিকা থেকে চূড়ান্তভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, যাচাইয়ের তালিকায় থাকা ভোটারদের মধ্যে ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার জনের নাম পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নাম বাদ পড়ার এই তালিকায় রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলার পরিসংখ্যান রীতিমতো চমকপ্রদ।

জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার নিরিখে শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ। এই জেলায় ২২টি বিধানসভা আসনে মোট ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ১৩৭ জনের নাম বাদ পড়েছে, যা যাচাইয়ের আওতায় থাকা ভোটারদের প্রায় ৪৩ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা উত্তর ২৪ পরগনার ৩৩টি বিধানসভা আসন থেকে বাদ গিয়েছে ৩ লক্ষ ২৫ হাজার ৬৬৬ জনের নাম। মালদহ ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাতেও নাম বাদ পড়ার সংখ্যা দুই লক্ষের গণ্ডি ছাড়িয়েছে। যথাক্রমে ২ লক্ষ ৩৯ হাজার ৩৭৫ এবং ২ লক্ষ ২২ হাজার ৯২৯ জন ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।

তালিকায় পরের দিকে রয়েছে পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া এবং উত্তর দিনাজপুর। বিশেষত নদিয়া জেলায় যাচাইয়ের আওতায় থাকা ভোটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭৭.৯ শতাংশ বা ২ লক্ষ ৮ হাজার ৬২৬ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে উত্তর দিনাজপুরে ১ লক্ষ ৭৬ হাজার ৯৭২ জন এবং পূর্ব বর্ধমানে ২ লক্ষ ৯ হাজার ৮০৫ জন ভোটার বাদ পড়েছেন। হাওড়া ও হুগলি জেলাতেও বাদ পড়ার সংখ্যা লক্ষাধিক। হাওড়ায় ১ লক্ষ ৩২ হাজার ১৫১ জন এবং হুগলিতে ১ লক্ষ ২০ হাজার ৮১৩ জনের নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে।

উত্তরবঙ্গের কোচবিহার জেলা দশম স্থানে রয়েছে, যেখানে ১ লক্ষ ২০ হাজার ৭২৫ জন ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। উল্লেখ্য, এই ডিলিশন বা নাম বাদ দেওয়ার শতাংশের হিসাবটি জেলার মোট ভোটার সংখ্যার ওপর নয়, বরং শুধুমাত্র যাঁরা যাচাইয়ের (Verification) আওতায় ছিলেন, তাঁদের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। ভোটার তালিকার এই শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে তৎপরতা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *