রাজ্যে বাড়বে সরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের সংখ্যা, শান্তিপুরে বড় ঘোষণা মমতার

শান্তিপুরের জনসভা থেকে একগুচ্ছ নতুন প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশেষত মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে রাজ্যে আরও বেশি সংখ্যক সরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল তৈরির ঘোষণা করেছেন তিনি। সোমবারের এই সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান যে, বর্তমান সময়ে বেসরকারি স্কুলগুলিতে পড়াশোনার খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উচ্চমূল্যের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বহু অভিভাবকই সন্তানদের ভালো স্কুলে পড়াতে চান, কিন্তু আর্থিক অনটনের কারণে তা সম্ভব হয় না। সাধারণ মানুষের এই সমস্যা দূর করতেই রাজ্য সরকার এবার ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের পরিকাঠামো বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নেবে। পাশাপাশি রাজ্যের প্রতিটি স্কুল ও কলেজকে আধুনিক প্রযুক্তিতে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর সরকারের।
রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার অগ্রগতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সরকারের বর্তমান সাফল্যগুলিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে পড়ুয়ারা বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, বই এবং সাইকেল পাচ্ছে। এমনকি উচ্চশিক্ষার সুবিধার্থে পড়ুয়াদের হাতে ট্যাব তুলে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, দেশের অন্য কোনো রাজ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে এই ধরনের ব্যাপক জনমুখী প্রকল্প বা সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয় না।
আসন্ন ২০২৬-এর নির্বাচনকে সামনে রেখে স্কুল শিক্ষা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই নয়া প্রতিশ্রুতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অতীতে শিক্ষা ক্ষেত্রে নিয়োগ সংক্রান্ত নানা দুর্নীতির অভিযোগে রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত হলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি উন্নয়নের পথেই পালটা জবাব দিচ্ছেন। এবার জয়ী হলে আরও নতুন স্কুল তৈরির পাশাপাশি বেসরকারি স্কুলের ব্যয়ভার নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ কমানোর আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
বিরোধীদের কড়া সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বিজেপিকে ‘বুলডোজার’ রাজনীতির ধারক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, অতীতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রতিশ্রুতি তিনি পূরণ করেছেন এবং আজ মহিলারা তার সুবিধা পাচ্ছেন। বিজেপির মাসিক ৩০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, মানুষের জন্য কাজ করার চেয়ে গেরুয়া শিবির বিরোধীদের দমন করতেই বেশি আগ্রহী।
ধর্ম ও ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও এদিন সুর চড়ান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, হিন্দু ধর্ম কোনো নির্দিষ্ট দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। একইসঙ্গে কমিশন ও বিজেপির আঁতাঁতের অভিযোগ তুলে ভোটারদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। শান্তিপুরের এই সভা থেকে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা বর্তমান সময়ে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।