রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দিতে বড় পদক্ষেপ নবান্নর

রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দিতে বড় পদক্ষেপ নবান্নর

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্যের সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য সরকার। তবে মৃত কর্মীদের বকেয়া অর্থ তাঁদের পরিবার কীভাবে পাবেন, তা নিয়ে এতদিন এক ধরণের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। সেই সংশয় কাটাতে এবার নির্দিষ্ট গাইডলাইন বা নির্দেশিকা জারি করল অর্থ দপ্তর। ২০০৮ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়ের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা ও ডিয়ারনেস রিলিফ (DR) প্রদানের বিষয়টি এই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে।

অর্থ দপ্তরের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রয়াত কর্মীদের নমিনি বা আইনি উত্তরাধিকারীরা এই বকেয়া অর্থের দাবিদার হবেন। ডিএ-র ক্ষেত্রে যদি সংশ্লিষ্ট কর্মীর নথিতে আগে থেকেই নমিনির নাম উল্লেখ থাকে, তবে সরাসরি সেই ব্যক্তিই টাকা পাবেন। যদি নমিনি না থাকে, তবে প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের পর আইনি উত্তরাধিকারীদের হাতে অর্থ তুলে দেওয়া হবে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য রাজ্য একটি বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর (০৩৩-২২৫৩৫৪১৭) এবং ইমেল আইডি চালু করেছে।

পেনশনভোগীদের বকেয়া ডিয়ারনেস রিলিফ পাওয়ার ক্ষেত্রেও পদ্ধতি সহজ করা হয়েছে। দাবিদারদের প্রয়োজনীয় নথি ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ সহ সংশ্লিষ্ট পেনশন বিতরণকারী কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে। অন্যদিকে, চাকরিরত অবস্থায় মৃত কর্মীদের বকেয়া আদায়ের জন্য শেষ কর্মস্থলের প্রধানের কাছে আবেদন জমা দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, নির্দেশিকা জারির ১৮০ দিনের মধ্যে এই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

কর্মীর মৃত্যুর সময়কাল অনুযায়ী বকেয়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে দুটি আলাদা পদ্ধতি অবলম্বন করা হবে। যে সমস্ত কর্মী ২০১৫ সালের আগে মারা গিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ই-সার্ভিস বুক তৈরি করে বকেয়ার হিসাব করা হবে। আর ২০১৫ সালের পর মৃত কর্মীদের ক্ষেত্রে যেহেতু এইচআরএমএস (HRMS) আইডি রয়েছে, তাই অনলাইন তথ্যের ভিত্তিতেই সরাসরি বকেয়া নির্ধারণ করে তা মিটিয়ে দেওয়া হবে।

রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে হাজার হাজার পরিবার যারা আইনি জটিলতা বা পদ্ধতিগত সমস্যার কারণে বকেয়া পাওনা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় ছিল, তারা উপকৃত হবে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং দ্রুত পরিষেবা নিশ্চিত করতেই হেল্পলাইন ও সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে বলে অর্থ দপ্তর সূত্রে খবর। সঠিক তথ্য ও নথিপত্র পেশ করলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই প্রাপ্য অর্থ পৌঁছে যাবে উত্তরাধিকারীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *