রাত ৩টেয় রাস্তায় একা তরুণী পাশে দাঁড়ালেন দুই অচেনা দেবদূত, বেঙ্গালুরুতে মন জয় করা সেই ভাইরাল ভিডিওর নেপথ্য কাহিনী

রাত ৩টেয় রাস্তায় একা তরুণী পাশে দাঁড়ালেন দুই অচেনা দেবদূত, বেঙ্গালুরুতে মন জয় করা সেই ভাইরাল ভিডিওর নেপথ্য কাহিনী

সিলিকন সিটি বেঙ্গালুরু মানেই কেবল যান্ত্রিক জীবন বা অসহনীয় যানজট নয়, বরং এই শহরের মানুষের মনে যে এখনও গভীর মানবিকতা বেঁচে আছে, তার প্রমাণ দিল সাম্প্রতিক একটি ঘটনা। গভীর রাতে বিপদে পড়া এক তরুণীর সাহায্যে এগিয়ে এলেন দুই সম্পূর্ণ অপরিচিত ব্যক্তি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার ভিডিও শেয়ার হতেই তা এখন নেটপাড়ায় ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঐশ্বর্য কল্পার্জুন নামে এক তরুণী নিজের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে তাঁর এই অভাবনীয় অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। সম্প্রতি রাত ৩টে নাগাদ তিনি বেঙ্গালুরু বিমানবন্দর থেকে বাসযোগে কাদুগোড়িতে পৌঁছান। সেখান থেকে তাঁর গন্তব্য ছিল মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে। কিন্তু গভীর রাত হওয়ায় কোনো ক্যাব বা অটো চালক ওইটুকু পথ যেতে রাজি হচ্ছিলেন না। অনলাইন অ্যাপেও দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করে কোনো রাইড মেলেনি। নির্জন রাস্তায় একা দাঁড়িয়ে যখন তিনি আতঙ্কিত বোধ করছিলেন, তখনই রক্ষাকর্তার মতো এগিয়ে আসেন এক বাস কন্ডাক্টর ও এক র‍্যাপিডো চালক।

তরুণীকে একা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বাস কন্ডাক্টর নিজে থেকে তাঁর কাছে এসে অভয় দেন। তিনি বলেন, “যতক্ষণ না আপনি কোনো গাড়ি পাচ্ছেন, ততক্ষণ আমি আপনার সঙ্গেই আছি, ভয় পাবেন না।” ঐশ্বর্য গাড়ি না পাওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে থেকে নিজের দায়িত্ব পালন করেন। কিছুক্ষণ পর সেখানে এক র‍্যাপিডো চালক উপস্থিত হলে তরুণী তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেন। চালক কোনো দরদাম ছাড়াই রাজি হয়ে যান এবং দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর দিকে মনোযোগ দেন।

বাড়ি পৌঁছানোর পর ঐশ্বর্য ভাড়ার কথা জিজ্ঞাসা করলে ওই চালক জানান, অর্থ নয়, বরং একজন নারীকে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়াই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, “অনেক রাত হয়েছে, আপনাকে নিরাপদে পৌঁছানোই বড় কথা। আপনি খুশি হয়ে যা দেবেন তাই নেব।” এই মানবিকতার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই প্রশংসার জোয়ার বইছে। নেটিজেনরা বলছেন, বেঙ্গালুরু যে নারীদের জন্য কতটা নিরাপদ এবং মানবিক, এই ঘটনাই তার সবথেকে বড় উদাহরণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *