রান্নাঘরের গ্যাসে রেকর্ড চাহিদা, মাত্র ৫ দিনে ৫৫ হাজার বাড়িতে পৌঁছালো পিএনজি সংযোগ

রান্নাঘরের গ্যাসে রেকর্ড চাহিদা, মাত্র ৫ দিনে ৫৫ হাজার বাড়িতে পৌঁছালো পিএনজি সংযোগ

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে গত পাঁচ দিনে দেশের ১১০টি ভৌগোলিক এলাকায় ৫৫ হাজারেরও বেশি পরিবারে পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস বা পিএনজি সংযোগের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে সরকার দ্রুত গতিতে এই পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চালাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের জ্বালানি নিশ্চিত করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত বাজারে ৪.৩ লক্ষেরও বেশি ৫ কেজির ছোট এলপিজি সিলিন্ডার বা ‘ছোটু’ সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে। এলপিজি থেকে পিএনজি সংযোগে স্থানান্তরের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে বাণিজ্যিক এলপিজির অতিরিক্ত ১০ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যেসব রাজ্য সংস্কারের কাজে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে, তাদের জন্য বাড়তি বরাদ্দের সুপারিশও করা হচ্ছে।

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে বর্তমানে আটটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এই বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে এবং আরও তিনটি রাজ্যের আবেদন বিবেচনাধীন রয়েছে। দেশের সমস্ত শোধনাগার বা রিফাইনারি বর্তমানে পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে রিফাইনারিগুলোতে এলপিজি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি পেট্রোল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে এবং দেশজুড়ে সমস্ত রিটেইল আউটলেট স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।

দামের বিষয়ে মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে যে পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরো মূল্যে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি বর্তমানে পেট্রোলে প্রতি লিটারে ২৪.৪০ টাকা এবং ডিজেলে প্রতি লিটারে ১০৪.৯৯ টাকা লোকসান সহ্য করে পুরনো দাম বজায় রেখেছে। সরকার জনগণকে কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে এবং সঠিক তথ্য প্রচারের জন্য রাজ্য সরকারগুলিকে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং করার অনুরোধ জানিয়েছে।

শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতেও বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রেস্তোরাঁ, হোটেল এবং ক্যান্টিনের মতো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পিএনজি সংযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে গ্রিড-সংযুক্ত শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের গড় ব্যবহারের প্রায় ৮০ শতাংশ সরবরাহ বজায় রাখা হয়েছে। এছাড়া ইউরিয়া প্ল্যান্টগুলোতে গত ছয় মাসের গড় ব্যবহারের ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। পাইপলাইন পরিচালনা সচল রাখতে অতিরিক্ত এলএনজি ও আরএলএনজি সরবরাহের ব্যবস্থা করছে মন্ত্রক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *