রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকটে দেশে জারি হলো জরুরি আইন

পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের জেরে ভারতে রান্নার গ্যাসের সরবরাহে ব্যাপক টান পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৯৫৫ সালের অত্যাবশ্যক পণ্য আইন প্রয়োগ করে এলপিজি মজুত, বিক্রি ও ব্যবহারের ওপর কঠোর নজরদারি শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এই সংকটকালীন পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেন।
নতুন সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, গৃহস্থালির গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সিলিন্ডার বুকিংয়ের নিয়মে বদল আনা হয়েছে। এখন থেকে ২১ দিনের পরিবর্তে ২৫ দিনের আগে নতুন সিলিন্ডার বুক করা যাবে না। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি সব জ্বালানি উৎপাদনকারী সংস্থাকে সর্বোচ্চ উৎপাদন বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো ডিলার বা সরবরাহকারী নির্ধারিত সীমার বেশি গ্যাস মজুত করলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে সতর্ক করেছে কেন্দ্র।
বর্তমানে ভারতে বছরে প্রায় ৩১.৩ মিলিয়ন টন এলপিজি ব্যবহৃত হয়, যার ৮৭ শতাংশই গৃহস্থালির কাজে লাগে। আমদানিতে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় বাণিজ্যিক ও শিল্প ক্ষেত্রে গ্যাসের বরাদ্দে টান পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো জরুরি পরিষেবার জন্য আলাদা কোটা রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে মোট বরাদ্দের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর সম্ভাবনা থাকলেও সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের গ্যাস সরবরাহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করতে তেল বিপণন সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।