রান্নার গ্যাসের সংকট নিয়ে গুজবে লাগাম টানতে কঠোর কেন্দ্র

দেশে রান্নার গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজব রুখতে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোকে কড়া নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক। বৃহস্পতিবার জারি করা এক নির্দেশিকায় সমস্ত রাজ্যের মুখ্যসচিবদের ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি তদারকি করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। কেন্দ্রের স্পষ্ট বার্তা, গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে কোনো প্রকার বিভ্রান্তিকর তথ্য আর বরদাস্ত করা হবে না।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির আবহে দেশে এলপিজি সিলিন্ডারের জোগান ব্যাহত হতে পারে বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। এর জেরে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আতঙ্ক আরও বাড়ে। ফলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্যাস বুকিং বা ‘প্যানিক-বাইং’ শুরু হয়, যা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে রান্নার গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। অযথা আতঙ্কিত হয়ে গ্যাস মজুত করার কোনো প্রয়োজন নেই। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিদিন উচ্চপর্যায়ের প্রেস ব্রিফিং এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সঠিক তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, বর্তমানে মাত্র ১৭টি রাজ্য নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন করে সঠিক তথ্য দিচ্ছে। বাকি রাজ্যগুলিকেও দ্রুত একই পথে হাঁটার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে আস্থা ফেরাতে এবং গুজব ছড়ানো রুখতে ইলেকট্রনিক মাধ্যমকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্র।
পাশাপাশি, এই সংকটের সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে কালোবাজারি বা বেআইনি মজুতদারি করতে না পারে, সেজন্য রাজ্য প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে সামান্য চাপ থাকলেও, মূলত গুজবের কারণেই পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পর্যাপ্ত এলপিজি মজুত থাকার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করাই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। কেন্দ্রের এই কড়া পদক্ষেপের পর রাজ্যগুলো গুজব রুখতে এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়, এখন সেটাই দেখার।