রান্নার গ্যাসের সংকট মেটাতে বড় পদক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর, পাইপলাইনের গ্যাস ও এলপিজি সরবরাহে কড়া নির্দেশ

দেশের বর্তমান রান্নার গ্যাস বা এলপিজি সংকটের সমাধান খুঁজতে নিরাপত্তার বিষয়ে বিশেষ ক্যাবিনেট বৈঠক ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবারের এই বৈঠকে পাইপলাইনের মাধ্যমে রান্নার গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের প্রেক্ষিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে সাফ জানিয়েছেন, আমদানির বিকল্প উৎস খুঁজে বের করার পাশাপাশি দেশজুড়ে এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই এলপিজি এবং এলএনজি-র নতুন সরবরাহ ব্যবস্থা যুক্ত করা হচ্ছে। রান্নার গ্যাসের দাম অপরিবর্তিত রাখার পাশাপাশি মজুতদারি ও কালোবাজারি রুখতে দেশজুড়ে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতের প্রস্তুতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এই বৈঠকে। আসন্ন গরমের কথা মাথায় রেখে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে কয়লার যোগান বাড়ানো এবং গ্যাস-ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির জন্য নিয়ম শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে সাত থেকে আট গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিকে বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রের।
বৈঠকে কৃষি এবং সারের উৎপাদন নিয়েও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের সঙ্গে সমন্বয় করে ইউরিয়া, ডিএপি এবং এনপিকে সারের নিরবচ্ছিন্ন যোগান বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে খাদ্যপণ্যের খুচরো বাজার স্থিতিশীল রাখতে ‘এসেনশিয়াল কমোডিটিস অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে রাজ্যগুলিকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী নাগরিকদের আশ্বস্ত করেছেন যে, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়তে দেওয়া হবে না। সঠিক তথ্য প্রচারের মাধ্যমে আতঙ্ক বা গুজব রুখতেও তিনি আধিকারিকদের বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার সব ধরণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে।