রায়দিঘিতে বিজেপি নেতার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার: রাজনৈতিক তরজা ছাপিয়ে প্রকাশ্যে ত্রিকোণ প্রেমের তত্ত্ব

দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি বিধানসভার দিঘিরপাড় বকুলতলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বিজেপির বুথ সহ-সভাপতি কিশোর মাঝির (৩৯) ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সোমবার গভীর রাতে বাড়ি থেকে মাত্র ৩০ মিটার দূরে একটি পুকুর পাড় থেকে স্থানীয়রা তাঁর দেহটি উদ্ধার করেন। রায়দিঘি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠায় এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করে।
ভোটের আবহে এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। রায়দিঘির বিজেপি প্রার্থী পলাশ রানার অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। অন্যদিকে, মথুরাপুর লোকসভার সাংসদ বাপি হালদার এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন যে, তৃণমূল খুনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। বিজেপি ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলে তিনি পাল্টা দাবি করেছেন।
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, এই মৃত্যুর নেপথ্যে রয়েছে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের টানাপোড়েন। নিহতের স্ত্রী অনিমা দাস ও তাঁর প্রেমিক গোবিন্দ হালদারকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে রায়দিঘি থানার পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ত্রিকোণ প্রেমের জেরেই কিশোর মাঝিকে খুন করা হয়েছে। পুলিশি হস্তক্ষেপে ঘটনার মোড় রাজনৈতিক সংঘাত থেকে ব্যক্তিগত আক্রোশের দিকে ঘুরলেও, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।