রাষ্ট্রপতিকে ‘আসাম্মান’ ও মমতার পাল্টা তোপ, তুঙ্গে বঙ্গ রাজনীতির পারদ

শনিবার উত্তরবঙ্গ সফরে এসে রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতি নিয়ে তীব্র উষ্মা প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। শিলিগুড়ির অনুষ্ঠানে জনসমাগম কম হওয়া এবং সভাস্থল পরিবর্তন নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর ‘রাগ’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সেই সঙ্গে রাজ্যের আদিবাসী ও সাঁওতাল সমাজের উন্নয়ন এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তি নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। প্রধানমন্ত্রী একে ‘লজ্জাজনক ও অভূতপূর্ব’ আখ্যা দিয়ে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক পদের গরিমা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন। অমিত শাহের দাবি, রাষ্ট্রপতির সফরে যথাযথ প্রোটোকল মানা হয়নি। বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, জনজাতি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে বারবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হচ্ছে।
পাল্টা জবাবে ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, রাষ্ট্রপতিকে বিজেপি তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি স্পষ্ট জানান, রাষ্ট্রপতিকে তিনি যথেষ্ট সম্মান করেন, তবে প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে বারবার উপস্থিত থাকা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে এই নজিরবিহীন বাকযুদ্ধ বর্তমানে রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।