রুশ তেল আমদানিতে ভারতের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল, নেপথ্যে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট

ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতকে রাশিয়ার কাছ থেকে ৩০ দিনের জন্য তেল কেনার সাময়িক অনুমতি দিয়েছে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে চাপ কমাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প আরও আশ্বস্ত করেছেন যে, আমেরিকার কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভে পর্যাপ্ত তেল মজুত রয়েছে।
আমেরিকার এই ‘অনুমতি’ নিয়ে বিতর্ক শুরু হলেও নয়াদিল্লি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় স্বার্থে যেখান থেকে সস্তায় তেল পাওয়া যাবে, সেখান থেকেই আমদানি অব্যাহত রাখা হবে। উৎস পরিবর্তন হলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে সাফ জানিয়েছে ভারত। মূলত ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই অনড় অবস্থান বজায় রেখেছে সরকার।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারত তার প্রয়োজনের ৮৫ শতাংশ তেল আমদানি করে, যার সিংহভাগ আসে রাশিয়া থেকে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির হিসাব বলছে, ভারত প্রতিদিন প্রায় ১০ লক্ষ ব্যারেল রুশ তেল কিনছে, যা মোট আমদানির প্রায় ২৫-৩০ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আমদানির এই বিশাল পরিমাণ প্রমাণ করে যে ভারতের তেল ক্রয়ের সিদ্ধান্ত মূলত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক চুক্তির ওপর নির্ভরশীল, যা কেবল কোনো নির্দিষ্ট দেশের সাময়িক অনুমতির ওপর টিকে নেই।