রুশ প্রযুক্তিতে নির্মিত বাঁধে ফাটল, চিনে ঘূর্ণিঝড় নিনার তাণ্ডবে মৃত ২ লক্ষাধিক

১৯৭৫ সালের ৮ আগস্ট ঘূর্ণিঝড় নিনার প্রভাবে চিনের হেনান প্রদেশে মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসে। সোভিয়েত বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় নির্মিত রু নদীর ওপর বানকিয়াও বাঁধটি প্রবল জলোচ্ছ্বাসে ভেঙে পড়লে মুহূর্তেই ভেসে যায় আরও ৫৯টি ছোট-বড় বাঁধ। এই ‘ক্যাসকেড ফেলিয়োর’-এর ফলে প্রায় ১২ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়। জনবসতি তছনছ করে দেওয়া এই জলোচ্ছ্বাসে ২৬ হাজার মানুষের তাৎক্ষণিক মৃত্যু হলেও পরবর্তী দুর্ভিক্ষ ও মহামারিতে প্রাণহানির সংখ্যা ২ লক্ষ ছাড়িয়ে যায়।
তদন্তে উঠে আসে, তথাকথিত ‘লোহার বাঁধ’ বানকিয়াও-এর নকশায় ছিল মারাত্মক ত্রুটি। খরচ কমাতে ১২টির পরিবর্তে মাত্র ৫টি স্লুইস গেট রাখা এবং পলি জমে জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা রুদ্ধ হওয়া এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। প্রকৌশলগত নিখুঁত পরিকল্পনার চেয়ে দ্রুত নির্মাণ ও রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় চরম আবহাওয়া মোকাবিলায় ব্যর্থ হয় এই পরিকাঠামো। আবহাওয়া দপ্তরের চরম সতর্কবার্তাকে উপেক্ষা করায় কয়েক লক্ষ মানুষ কোনো পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই এই প্রলয়ের মুখে পড়েন।
দীর্ঘ দুই দশক ধরে চিন সরকার এই অকল্পনীয় ক্ষয়ক্ষতির তথ্য বিশ্ববাসীর কাছে গোপন রেখেছিল। আশির দশকের শেষে এবং নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এই মহাপ্রলয়ের সত্যতা প্রকাশ্যে এলে বিশ্বজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ঘূর্ণিঝড় নিনা এক বছরের গড় বৃষ্টিপাতের চেয়েও বেশি জল মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ঝরিয়ে দিয়ে হেনান প্রদেশকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছিল। এই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই পরবর্তীকালে চিনের বড় বাঁধ নির্মাণ ও নিরাপত্তা নীতিতে আমূল পরিবর্তন আনা হয়।