রেকর্ড দাম বাড়াল সৌদি আরব, বিপাকে ভারতসহ এশিয়ার তেল বাজার

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে তীব্র অস্থিরতার মাঝে এশিয়ার দেশগুলোর জন্য তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণে বাড়িয়ে দিল সৌদি আরব। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা সৌদি আরামকো ঘোষণা করেছে যে, আগামী মে মাস থেকে তাদের প্রধান রফতানি পণ্য ‘আরব লাইট’ ক্রুড অয়েলের দাম এশীয় রিফাইনারিগুলোর জন্য নজিরবিহীন উচ্চতায় পৌঁছাবে। আঞ্চলিক বেঞ্চমার্ক ওমান বা দুবাই গড়ের ওপর ভিত্তি করে প্রতি ব্যারেলে ১৯.৫০ ডলার প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সৌদি আরবের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২২ সালের আগস্টে সর্বোচ্চ ৯.৮০ ডলার প্রিমিয়ামের রেকর্ড এবার অনেক ব্যবধানে ভেঙে গেল।
মূলত পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর সংকটের কারণেই সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় এই মূল্যবৃদ্ধি। ইরান-সংশ্লিষ্ট যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ইতিমধ্যে ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বাজার বিশ্লেষকরা প্রিমিয়াম আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা করলেও শেষ পর্যন্ত এপ্রিল মাসের তুলনায় ১৭ ডলার বাড়িয়ে দাম স্থির করেছে রিয়াদ। তবুও এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি ভারত, চীন এবং জাপানের মতো বড় আমদানিকারক দেশগুলোর অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতের মতো দেশে, যেখানে তেলের চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর, সেখানে এই দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে সাধারণ মানুষের পকেটে। অপরিশোধিত তেলের চড়া দামের ফলে পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা পণ্য পরিবহন ও শিল্প উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে মুদ্রাস্ফীতিকে উসকে দিতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এশিয়ার রিফাইনারি কো ম্পা নিগুলো এখন সৌদি আরবের বিকল্প হিসেবে রাশিয়া, ইরাক বা সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে তেল আমদানির কথা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। বিশ্ব অর্থনীতির এই টালমাটাল অবস্থায় জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।