রেজিনগরে বাবরির আবেগ বনাম উন্নয়ন: ভোটযুদ্ধে হুমায়ুন-ওয়েইসি ফ্যাক্টর কি খেলা ঘোরাবে?

মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে আসন্ন নির্বাচনে মূল ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে ধর্মীয় আবেগ ও ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণ ইস্যু। তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে এই মসজিদের শিলান্যাস করে সংখ্যালঘু ভোটারদের একজোট করার লক্ষ্যে ভোট ময়দানে নেমেছেন। তাঁর সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন মিম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। এই ধর্মীয় মেরুকরণকে হাতিয়ার করে হুমায়ুন নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির চেষ্টা করলেও, স্থানীয় ভোটারদের একাংশ একে নিছকই ধর্মবিশ্বাস হিসেবে দেখছেন, যা ভোটবাক্সে কতটা প্রতিফলিত হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
অন্যদিকে, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস তাদের শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ওপর ভরসা রাখছে। দলের প্রার্থী আতাউর রহমান স্থানীয় স্তরে যথেষ্ট প্রভাবশালী এবং তাঁর নেতৃত্বে তৃণমূলের সংগঠন এখানে সংহত। এলাকায় রাস্তাঘাট, পানীয় জল এবং দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা শিল্পতালুক ও কলেজের দাবির মতো স্থানীয় ইস্যুগুলোও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তবে গত দেড় দশকে এই কেন্দ্রে হুমায়ুনের সরাসরি জয়ের রেকর্ড না থাকা এবং তৃণমূলের উন্নয়ন কার্ডের বিপরীতে বাবরির আবেগ কতখানি ধোপে টিকবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
চতুর মুখী লড়াইয়ে কংগ্রেসের জিল্লু শেখ এবং বিজেপির বাপন ঘোষও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসছেন। বিশেষ করে এলাকার ৩৮ শতাংশ হিন্দু ভোট এককভাবে বিজেপির দিকে ঝুঁকে পড়লে এবং ৬২ শতাংশ মুসলিম ভোট তৃণমূল, কংগ্রেস ও হুমায়ুন শিবিরের মধ্যে ভাগ হয়ে গেলে ফল অভাবনীয় হতে পারে। সংখ্যালঘু ভোট কাটাকাটির এই লড়াই শেষ পর্যন্ত কার স্বপ্নে ভাগীরথীর জল ঢালবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে। উন্নয়নের দাবি বনাম ধর্মীয় আবেগের এই লড়াইয়ে রেজিনগরের রায় এখন সময়ের অপেক্ষায়।