রেপো রেট নিয়ে রিজার্ভ ব্যাংকের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, কাল ইএমআই না কি স্বস্তি

রেপো রেট নিয়ে রিজার্ভ ব্যাংকের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, কাল ইএমআই না কি স্বস্তি

ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (আরবিআই) আগামী ৮ এপ্রিল তাদের নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে চলেছে। বর্তমান বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের ক্রমবর্ধমান দাম এবং অভ্যন্তরীণ মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কার মধ্যে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঋণগ্রহীতা থেকে শুরু করে বিনিয়োগকারী—প্রত্যেকেই অধীর আগ্রহে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। গভর্নর শক্তিকান্ত দাসের এই ঘোষণা সরাসরি সাধারণ মানুষের মাসিক ইএমআই এবং শেয়ার বাজারের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার জেরে ভারতীয় টাকার মূল্যের ওপর প্রবল চাপ তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখা এবং আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা আরবিআই-এর সামনে এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। সাধারণত জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন এবং খাদ্যদ্রব্যের খরচ বৃদ্ধি পায়। এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে অর্থনীতিকে সঠিক পথে রাখতে মনিটারি পলিসি কমিটির (এমপিসি) সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

অধিকাংশ অর্থনীতিবিদদের অনুমান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক আপাতত রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখতে পারে। যদি সুদের হার স্থিতিশীল থাকে, তবে গৃহঋণ এবং গাড়ি লোন নেওয়া ব্যক্তিদের জন্য তা বড় স্বস্তি হবে। তবে ভবিষ্যতে হার বৃদ্ধির সামান্যতম ইঙ্গিতও ঋণের খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সুদের হার স্থির রাখা হলে তা বাজারে চাহিদার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

অন্যদিকে, ব্যাংকে টাকা জমা রাখা সাধারণ মানুষ এবং প্রবীণ নাগরিকরা ফিক্সড ডিপোজিটে (এফডি) উন্নত সুদের হারের প্রত্যাশা করছেন। মুদ্রাস্ফীতির ফলে সঞ্চয়ের প্রকৃত মূল্য কমে যায়। যদি রিজার্ভ ব্যাংক কড়া অবস্থান গ্রহণ করে, তবে সঞ্চয় প্রকল্পগুলোতে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল প্রবীণ নাগরিকদের সুবিধাই হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ঘোষণার আগে শেয়ার বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশেষ করে টাকার মূল্যের ওঠানামা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের (এফআইআই) আচরণে প্রভাব ফেলছে। আরবিআই-এর এই বৈঠক আগামী কয়েক মাসের জন্য দেশের আর্থিক রূপরেখা তৈরি করবে। শিল্পমহল থেকে সাধারণ মধ্যবিত্ত, সকলের নজর এখন কালকের ঘোষণার দিকে, যা নির্ধারণ করবে আগামীর পারিবারিক বাজেট ও বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *